একটি নিখুঁত ওভারে যেকোনো বিশ্বসেরা বোলারের প্রতিভার পুরো ঝলক ফুটে উঠতে পারে। কিংসমিডে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নিয়ে ঠিক তেমনটাই করে দেখালেন অস্ট্রেলিয়ান গতি তারকা জশ হ্যাজলউড। চমৎকার লেংথ এবং সিমে আঘাত করে মার্কেট জানসেনের অফ স্টাম্প ট্রিম করার পর, তৃতীয় বলেই একটি অপ্রতিরোধ্য বাউন্সারে সাইমন হারমারকে উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারির ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। পরবর্তীতে আনরিখ নরকিয়াকে আউট করার মাধ্যমে অজিদের বড় ব্যবধানের জয় সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা ৪৯ রানে ৬ উইকেটের রেকর্ড গড়ে তোলেন হ্যাজলউড।
এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটে ৩১০ উইকেটের দীর্ঘদিনের রেকর্ড গড়ে রাখা কিংবদন্তি বোলার ব্র্রেট লি-কে টপকে অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের সেরা উইকেট শিকারির তালিকায় অষ্টম স্থানে উঠে এসেছেন হ্যাজলউড। এর ফলে অজি টেস্ট দলের বর্তমান সেরা চার বোলার—প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন এবং জশ হ্যাজলউড যৌথভাবে দেশের ইতিহাসের শীর্ষ আট উইকেট শিকারির তালিকার অর্ধেক জায়গা দখল করে নিলেন। ডারবানের কিংসমিডের পঞ্চম দিনের উইকেটে অসম বাউন্স এবং রিভার্স সুইংকে কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত লাইন ও লেংথে বল করে প্রোটিয়া ব্যাটারদের চরম বিপাকে ফেলে দেন তিনি।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক প্যাট কামিন্স তাঁর সহযোদ্ধা হ্যাজলউডের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেন, হ্যাজলউডকে সবাই কেবল ধারাবাহিকভাবে ভালো বোলিং করার জন্য চেনে, কিন্তু সেটি তাঁর আসল সামর্থ্যের পুরোটা প্রকাশ করে না। তিনি নতুন বলে যেমন অত্যন্ত স্কিলফুল, রিভার্স সুইং পজিশনেও একই রকম ভয়ংকর। অধিনায়ক হিসেবে দলের কঠিন মুহূর্তে হ্যাজলউড ও স্টার্ককে কোনো অজুহাত ছাড়াই হাসিমুখে বল হাতে লড়াই করতে দেখাটা এক স্বপ্নের মতো বিষয় বলে উল্লেখ করেন কামিন্স। পরিসংখ্যানেও দেখা যাচ্ছে যে, গত তিন বছরে হ্যাজলউডের নেওয়া প্রতিটি টেস্ট উইকেটে খরচ হয়েছে রান ১৭.৯৩-এর নিচে। ২০২৪ সালে যা ছিল ১৩.৬০ এবং ২০২৬ সালে তা আরও কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৪.৪৩-এ। ২০২৪ সালের পর থেকে টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে কম গড়ে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডও এখন এই অজি পেসারের দখলে।
ইনজুরির কারণে বিগত বছরের অ্যাশেজে খেলতে না পারলেও মাঠে ফিরেই নিজের জাত চিনিয়েছেন হ্যাজলউড। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ডারউইন টেস্টে ৬/৮৯ এর পর এটি তাঁর টানা তিন ম্যাচের মধ্যে দ্বিতীয়বার ছয় উইকেট শিকার। সাম্প্রতিক এই ব্যস্ত টেস্ট সিরিজের আগে কঠোর ট্রেনিং সেশন এবং ওয়ানডে ফরম্যাটে নিজের ছন্দ বজায় রাখাই তাকে এমন সাফল্য এনে দিয়েছে বলে জানান হ্যাজলউড। একইসঙ্গে কামিন্স, স্টার্ক, লায়ন ও হ্যাজলউডের এই শক্তিশালী বোলিং চতুষ্টয় যৌথভাবে মাঠের লড়াইয়ে ৬০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করায় দলগত এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে অস্ট্রেলিয়া।
প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা অজি বোলিং আক্রমণের অবিরাম ও নির্দয় আক্রমণের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বমানের বোলিংয়ের সঠিক রূপ তুলে ধরেছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের এই অবিরাম আক্রমণের মুখে পড়ে কোনো ব্যাটারই অন্তত কিছুক্ষণ শান্তিতে খেলার সুযোগ পায় না, যা সত্যিই বেশ চ্যালেঞ্জিং। বয়স এবং ইনজুরি সংক্রান্ত প্রশ্ন সামলে পেস আক্রমণের এই সেরা ত্রয়ী যে এখনও বিশ্বের যেকোনা ব্যাটিং লাইনাপকে গুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত, ডারবান টেস্টে জশ হ্যাজলউডের এই স্পেল যেন সেটিই আবার মনে করিয়ে দিল।
মন্তব্য করুন