ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডের উত্তপ্ত ও মুখরিত পরিবেশকে জয়ে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হয়েছে লিভারপুল। উল্টো সফরকারী ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে মাঠ ছেড়েছে অলরেডরা। আর্থিক নিয়মভঙ্গের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সিটির প্রথম কোনো ম্যাচ হলেও মাঠে তার কোনো প্রভাবই পড়তে দেননি এনজো মারেস্কার শিষ্যরা। প্রথমার্ধের চাপ সামলে দ্বিতীয়ার্ধে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে সহজ জয় তুলে নেয় ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচের ৬০ মিনিটে লিভারপুলের রাইয়ান গ্রাভেনবার্খ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় সিটির হাতে, যা স্বাগতিকদের জন্য এক চরম বিপর্যয় ডেকে আনে।
ম্যাচের ৬০ মিনিটে ডোকুকে ফাউল করে গ্রাভেনবার্খ লাল কার্ড দেখার পরপরই লিভারপুলের রক্ষণে একের পর এক আঘাত হানতে থাকে ম্যান সিটি। আর্লিং হাল্যান্ডের দুর্দান্ত ভলিতে প্রথমে এগিয়ে যায় সিটি। এর কিছুক্ষণ পরই বদলি হিসেবে নামা জেরেমি ডোকু এক দারুণ কার্লিং শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে রায়ান চেরকি চমৎকার ফিনিশিংয়ে লিভারপুলের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। বিপরীতে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের নতুন তারকা ফ্লোরিয়ান ভির্টজ এবং ব্র্যাডলি বারকোলা চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেওয়ায় লিভারপুলের আক্রমণভাগ কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি।
ম্যানচেস্টার সিটির এই ঐতিহাসিক জয়ের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেন তাদের মাঝমাঠের জেনারেল এলিয়ট অ্যান্ডারসন এবং বদলি হিসেবে নামা জেরেমি ডোকু। অ্যান্ডারসন পাসিং, ডুয়েল জয় এবং টেম্পো নিয়ন্ত্রণে অনন্য নৈপুণ্য দেখিয়ে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। অন্যদিকে লিভারপুল ম্যানেজার অ্যান্ডোনি ইরাওলা চোটের কারণে কোডি গাকপো ও অ্যালেক্সান্ডার আইজ্যাককে ছাড়া দল সাজাতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েন। লাল কার্ডের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁর কৌশল সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়, যার ফলে অ্যানফিল্ডে স্মরণকালের অন্যতম তিক্ত পরাজয় বরণ করতে হয় লিভারপুলকে।
মন্তব্য করুন