রাজধানী ঢাকায় একের পর এক নাশকতামূলক তৎপরতা ও উত্তেজনার মধ্যেই এবার কাফরুল এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর মালিবাগ, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী ও আগারগাঁওসহ বেশ কয়েকটি স্থানে ধারাবাহিক ৮টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা পুরো নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার শাজাহান ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার রাত সোয়া ১০টার দিকে কাফরুল থানার ঠিক সামনে মিরপুর সুপার লিংক নামের একটি বাসে আগুন দেওয়ার খবর আসে। তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে এবং প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় সাড়ে ১০টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে প্রাথমিকভাবে বাসে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, বাসে আগুন লাগার ওই ঘটনার ঠিক আগে শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে মোট আটটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। জুমার নামাজের পরপরই মালিবাগ রেলগেট সংলগ্ন সড়কে সোহাগ পরিবহণের কাউন্টারের পাশে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের এডিসি জাহিদ এই বিস্ফোরণের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িত দুর্বৃত্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এরপর সন্ধ্যার দিকে যাত্রাবাড়ী এলাকায় সবচেয়ে বড় নাশকতার ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে এবং ঠিক পরপরই ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে আরও তিনটিসহ মোট চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের ওপর থেকে এসব ককটেল নিচে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এসব আকস্মিক বিস্ফোরণে চারদিক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়ে পথচারীরা ছোটাছুটি শুরু করেন। এই ঘটনায় এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক আহত হন এবং তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের ডেমরা জোনের ডিসি মীর মহশীন হাসপাতালে গিয়ে আহত চালকের খোঁজখবর নেন এবং ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এছাড়া একই সময়ে সন্ধ্যার দিকে মহাখালীতে পরপর দুটি এবং আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বেতার ভবনসংলগ্ন সড়কে আরও একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। তবে এসব স্থানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করছে, দেশজুড়ে চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে রাজধানীতে ত্রাস সৃষ্টি ও অস্থিতিশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যে এই ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে।
মন্তব্য করুন