কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নানা কৌশলে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার জন্য গোপন তৎপরতা ও ঝটিকা মিছিল শুরু করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে গিয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর গুলশানে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের একটি বড় ধরনের ঝটিকা মিছিল বের হওয়ার ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ে মাঠপর্যায়ের কিছু পুলিশ কর্মকর্তার বিতর্কিত মন্তব্য ও গোপন যোগাযোগের বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এসব ঘটনায় গুলশান জোনের ডিসি ও থানার ওসির পাশাপাশি ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে নানামুখী তদন্ত চলছে। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির অসদুদ্দেশ্যেই এই গোপন পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে, যার পেছনে বিগত দেড় দশকের দলীয়করণের সুবাদে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে রয়ে যাওয়া কিছু অদৃশ্য নেটওয়ার্ক ও পলাতক কর্মকর্তাদের ইন্ধন রয়েছে।
২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে পুলিশ প্রশাসনে যে ব্যাপক দলীয়করণ হয়েছিল, তার রেশ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। পালিয়ে থাকা সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলামের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিরা বিদেশ থেকে পুলিশ বাহিনীকে সরকারের বিরুদ্ধে উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এই ধরনের যেকোনো গোপন আঁতাত, অশুভ রাজনৈতিক তৎপরতা ও বিশৃঙ্খলা কঠোরহস্তে রুখে দিতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ে অত্যন্ত কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি দ্বিগুণ করার পাশাপাশি রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি স্পর্শকাতর এলাকা ও প্রবেশপথে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাৎ হোসাইন জানিয়েছেন, গুলশানের ঘটনায় ইতিমধ্যে ৭৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা দমনে মাঠ পুলিশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ুমরাও মনে করেন যে, পেশাদার বাহিনী হিসেবে পুলিশের কোনো সদস্যের রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে কাজ করার সুযোগ নেই এবং সরকারের নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কার্যক্রম কঠোরভাবে প্রতিরোধ করাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মূল দায়িত্ব।
মন্তব্য করুন