টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম দিনে লাঞ্চের আগে সেঞ্চুরি হাঁকানোর এক অবিস্মরণীয় রেকর্ডের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচের প্রথম সেশনে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই দুর্দান্ত আগ্রাসী মেজাজে রান তুলতে থাকেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর চওড়া হয়ে তিনি মাত্র ৪১ বলেই ৭টি চার এবং ১টি ছক্কার সাহায্যে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন। হাফ সেঞ্চুরি করার পর ইনিংস ধীরগতির করার যে প্রচলিত ধারা, তানজিদ সে পথে না হেঁটে উল্টো রানের গতি আরও বাড়িয়ে দেন।
তার এমন ঝোড়ো ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল লাঞ্চের আগেই শতকের মাইলফলক স্পর্শ করে ফেলবেন তিনি। আর সেটি করতে পারলে বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন এক ইতিহাস তৈরি হতো। ২০১০ সালে ম্যানচেস্টারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তামিম ইকবালের করা দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি ভেঙে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা ছিল। এছাড়া টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ম্যাচের প্রথম দিনে লাঞ্চের বিরতির আগেই সেঞ্চুরি হাঁকানোর যে বিরল কীর্তি বিশ্ব ক্রিকেট মাত্র ছয়বার দেখেছে, সেই এলিট ক্লাবে নাম লেখানোর সুবর্ণ সুযোগও তৈরি হয়েছিল। তবে ঠিক ১৬ বছর আগে ঢাকা টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তামিম ইকবালের ৮৫ রানে আউট হওয়ার সেই পুরোনো আক্ষেপেরই যেন পুনরাবৃত্তি ঘটল এবার।
ব্যক্তিগত ৮৩ রানের মাথায় ইসমাত আলমের বলে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যেতে হয় তানজিদকে। ১৭ রানের আফসোস নিয়ে তার এই প্রস্থান ১৬ বছর আগের তামিম ইকবালের সেই হতাশার স্মৃতিকেই আবার নতুন করে ফিরিয়ে এনেছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। অল্পের জন্য সেঞ্চুরি ও একাধিক রেকর্ড হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ সঙ্গী হলেও, তার এই নান্দনিক ও সাহসী ইনিংসটি দলের স্কোরবোর্ডে দারুণ এক শক্ত ভিত গড়ে দিয়েছে।
মন্তব্য করুন