ফুটবল ম্যাচ মানেই স্নায়ুচাপের লড়াই, আর সেই লড়াই যখন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনাল হয়, তখন প্রতিটি মিনিটই হয়ে ওঠে অমূল্য। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ সমতায় থাকা আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচ যখন ক্লান্তির শেষ সীমায়, ঠিক তখনই রূপকথার নায়কের মতো আবির্ভাব ঘটল হুলিয়ান আলভারেজের। ঘড়ির কাঁটায় তখন ১১২ মিনিট, আর আলভারেজের পায়ের জাদুকরী শটটি শুধু বলকে জালেই জড়ায়নি, খুলে দিয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালের দরজা।
আর্জেন্টিনার কর্দোবা প্রদেশের ছোট্ট শহর কালচিন থেকে উঠে আসা এই ফরোয়ার্ডের ফুটবল প্রতিভার গল্পটা রূপকথার চেয়ে কম নয়। ক্ষিপ্রতা আর গোলের সামনে সহজাত টানের কারণে তাকে সবাই ‘লা আরানিয়া’ বা মাকড়সা বলে ডাকে। আধুনিক ফুটবলে যেখানে সেন্টার-ফরোয়ার্ডদের শারীরিক শক্তির ওপর জোর দেওয়া হয়, সেখানে আলভারেজের বড় অস্ত্র তার ফুটবল মস্তিষ্ক, ক্ষিপ্রতা আর পরিশ্রম করার অদম্য মানসিকতা। রিভার প্লেট থেকে ম্যানচেস্টার সিটি হয়ে বর্তমানে আতলেতিকো মাদ্রিদের জার্সিতে খেলা এই তরুণ ফরোয়ার্ড নিজেকে প্রমাণ করেছেন বহুমুখী প্রতিভা হিসেবে।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর আলভারেজের ট্রফির আলমারি আজ সাফল্যের নিদর্শনে পূর্ণ। কোপা লিবার্তাদোরেস, কোপা আমেরিকা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রায় প্রতিটি বড় ট্রফির স্বাদই তিনি পেয়েছেন। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার কঠিন মিশনে থাকা আর্জেন্টিনার জন্য সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল এক বড় পরীক্ষা। সেই কঠিন মুহূর্তে দলের ত্রাতা হয়ে আলভারেজ বুঝিয়ে দিলেন, বড় খেলোয়াড় হতে সবসময় শুরুর আলোয় থাকতে হয় না; কখনো কখনো ১১১ মিনিট অপেক্ষা করে ১১২ মিনিটের জন্য প্রস্তুত থাকাই যথেষ্ট।
১১২ মিনিটের সেই গোলটি এখন কেবল একটি স্কোরলাইনের সংখ্যা নয়, এটি কোটি আর্জেন্টিনা ভক্তের কাছে এক স্মরণীয় স্মৃতি। যখন পুরো স্টেডিয়াম ও কোটি মানুষ উত্তেজনায় ভাসছিল, আলভারেজ তখন নিঃশব্দে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম নতুন করে লিখে রাখলেন। তার এই শটটি ছিল একটি দেশের স্বপ্ন, প্রার্থনা ও চার বছরের পরিশ্রমের সম্মিলিত রূপ। ইতিহাসের পাতায় আলভারেজের এই নাম এখন আর্জেন্টিনার প্রতিটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে গেঁথে থাকবে অনেকদিন।
১১২ মিনিটের সেই রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তে আলভারেজের শটটি কি আপনার চোখে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা স্নায়ুর জয় বলে মনে হয়?
মন্তব্য করুন