শুরুতে টানা ধাক্কা সামলে শেষ পর্যন্ত রাজকীয়ভাবে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা নিজেদের করে নিল ভারত ‘এ’ দল। টুর্নামেন্টের ফাইনালে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলকে ৬৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে তিলক বর্মার নেতৃত্বাধীন দলটি [cite: তিলক ট্রফি সংগ্রহ করেন এবং অন্য ভারত এ খেলোয়াড় এবং সাপোর্ট স্টাফরা তাঁর সাথে যোগ দিয়ে উদযাপন করেন ..., ফাইনালে শ্রীলঙ্কা এ দলের বিরুদ্ধে একটি আরামদায়ক ৬৬ রানের জয় দিয়ে তাদের অভিযান শেষ করেছে।]। টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ভারতীয় ব্যাটারদের তাণ্ডবে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩৭৬ রানের পাহাড়সম পুঁজি দাঁড় করায় ভারত। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের ইনিংস ৩১০ রানেই থমকে যায়।
ফাইনালে ভারতের এই দাপুটে জয়ের মূল নায়ক ছিলেন তরুণ বাঁহাতি ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী। ম্যাচের প্রথম ওভার থেকেই শ্রীলঙ্কান বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান এই youngster। মাত্র ২৯ বলে ১০টি চার ও ৮টি ছক্কার সাহায্যে এক বিস্ফোরক ৯৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এই বিধ্বংসী ইনিংস খেলার পথেই মাত্র ১১ বলে নিজের অর্ধশতক (ফিফটি) পূর্ণ করেন বৈভব, যা লিস্ট ‘এ’ (List A) ক্রিকেটের ইতিহাসের দ্রুততম ফিফটির নতুন বিশ্বরেকর্ড।
বৈভবের এই ঝড়ো শুরুর পর ভারতের অন্য ব্যাটারদের বড় সংগ্রহ গড়ার কাজটা সহজ হয়ে যায়। প্রিয়াংশ আর্য, রুতুরাজ গায়কোয়াড়, অধিনায়ক তিলক বর্মা, কুমার কুশাগ্ৰ এবং অনুকূল রায়ের ছোট কিন্তু কার্যকরী অবদানগুলোর ওপর ভর করে এই আসরে নিজেদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ দাঁড় করায় ভারত [cite: প্রিয়াংশ আর্য, রুতুরাজ গায়কোয়াড়, তিলক বর্মা, কুমার কুশাগ্ৰ, এবং অনুকূল রায়ও মূল্যবান অবদান রেখেছেন কারণ ভারতীয় ব্যাটিং ইউনিট ত্রিদেশীয় সিরিজের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে।]। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক সহন আরাচ্চিগেও ম্যাচ শেষে স্বীকার করেন যে, পাওয়ার প্লেতে বৈভবের ওই ইনিংস এবং ডেথ ওভারের ব্যাটিংই মূলত ম্যাচটি তাদের হাত থেকে কেড়ে নিয়েছে [cite: সহন আরাচ্চিগে | শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক: বৈভব পাওয়ার প্লেতে একটি চমৎকার ইনিংস খেলেছে, এবং শেষ দুই ওভারও ভারতের পক্ষে গেছে।]।
৩৭৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বড় বিপর্যয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দল [cite: ৩৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ..., খেলাটি চূড়ান্তভাবে ভারতের পক্ষে চলে যায় যখন যশ ঠাকুর প্রথম পাওয়ার প্লেতে শ্রীলঙ্কার শীর্ষ তিন ব্যাটারকে আউট করেন।]। প্রথম পাওয়ার প্লে-র মধ্যেই লঙ্কান শিবিরের শীর্ষ তিন ব্যাটারকে সাজঘরে ফিরিয়ে ম্যাচ ভারতের নিয়ন্ত্রণে এনে দেন পেসার যশ ঠাকুর। মাঝের ওভারে সাদিরা সামারাবিক্রমা এবং ওয়ানুজা সহন জোড়া অর্ধশতক হাঁকিয়ে প্রয়োজনীয় রান রেট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না, কারণ অন্য প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা [cite: সাদিরা সামারাবিক্রমা এবং ওয়ানুজা সহন ফিফটি করেন এবং প্রয়োজনীয় রান রেট নিয়ন্ত্রণে রাখেন, কিন্তু শ্রীলঙ্কা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে।]।
ইনিংসের ৪৮তম ওভারের প্রথম বলে বিপরাজ নিগমকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে অনুকূল রায়ের দুর্দান্ত এক ডাইভিং ক্যাচে পরিণত হন মোহাম্মদ শিরাজ (২১) [cite: ৪৭.১ ... বিপরাজ নিগম থেকে মোহাম্মদ শিরাজ, আউট ক্যাচ অনুকূল রায় ... এই বলে সে লাইনের ওপর দিয়ে মারতে চেয়েছিল, এটি স্পিন করে বাইরের প্রান্তে লাগে। অনুকূল ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট থেকে তাঁর ডানদিকে সরে যান, ডাইভ দেন এবং একটি ভালো নিচু ক্যাচ নেন।]। এর সাথেই শ্রীলঙ্কার ইনিংস শেষ হয়ে যায় এবং ভারত ৬৬ রানের এক দুর্দান্ত জয় নিশ্চিত করে ট্রফি উঁচিয়ে ধরে।
টুর্নামেন্টের শুরুতে আফগানিস্তান ‘এ’ এবং শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের কাছে টানা দুই ম্যাচে হেরে ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল ভারত [cite: তিলক বর্মা | ভারত অধিনায়ক: হ্যাঁ, একেবারেই। এই টুর্নামেন্টে সবাই আসল চরিত্র দেখিয়েছে, বিশেষ করে যখন আমরা আফগানিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ব্যাক-টু-ব্যাক ম্যাচ হেরেছিলাম।]। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়াকে দলের খেলোয়াড়দের মানসিক শক্তির বড় বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন অধিনায়ক তিলক বর্মা। ম্যাচ শেষে দুর্দান্ত ৯৪ রানের ইনিংসের জন্য বৈভব সূর্যবংশীকে ম্যাচসেরা নির্বাচিত করা হয়। এই সীমিত ওভারের লড়াই শেষেই ভারত ‘এ’ এবং শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দল আগামী ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) থেকে গালে-তে দুটি চার দিনের অনানুষ্ঠানিক টেস্ট ম্যাচে মুখোমুখি হবে [cite: কিন্তু ভুলবেন না, ভারত এ এবং শ্রীলঙ্কা এ এখন গালেতে দুটি চার দিনের ম্যাচ খেলবে, যা ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হবে।]।
মন্তব্য করুন