ক্লাইড নদীর তীরে হঠাৎই ফুটে উঠেছিল একটি গোলাপ, যা ধীরে ধীরে আকাশ ছুঁয়ে গ্লাসগোর স্কাইলাইনে এক নতুন দৃশ্যপটের জন্ম দিয়েছে। গ্লাসগোর মাথার ওপর ভাসতে থাকা এই বিশাল গোলাপ যেন ঘোষণা করছে যে, কমনওয়েলথ গেমস এখন পুরো শহরের হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। শহরের ঐতিহাসিক ফিনিস্টন ক্রেনকে একটি বিশাল শিল্প ক্যানভাসে রূপান্তর করে তার বুকজুড়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘দ্য গ্লাসগো রোজ’। এটি একই সঙ্গে গ্লাসগোর শিল্পঐতিহ্য, প্রকৌশল দক্ষতা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নকে এক সুতোয় গেঁথে দিয়েছে।
স্কটল্যান্ডের কিংবদন্তি শিল্পী চার্লস রেনি ম্যাকিনটশ ও মার্গারেট ম্যাকডোনাল্ড ম্যাকিনটশের বিশ্বখ্যাত ‘ম্যাকিনটশ রোজ’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গ্লাসগোর শিল্পী এমার টামিলটি এবং আন্তর্জাতিক সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান নিউজাবস্ট্যান্স যৌথভাবে এই শিল্পকর্মটি তৈরি করেছে। গ্লাসগো ফেস্টিভ্যালের অংশ হিসেবে নির্মিত এই বিশাল স্থাপনা কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসেও অন্যতম বৃহৎ জনশিল্প শিল্পকর্ম হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। প্রতিযোগিতা শুরুর ঠিক আগে গ্লাসগোর আকাশ যেন নতুন এক পরিচয়ে সেজে উঠেছে, যা গেমসে অংশ নিতে আসা ক্রীড়াবিদ ও দর্শকদের জন্য এক আকাশছোঁয়া অভ্যর্থনা।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ফিনিস্টন ক্রেন ছিল গ্লাসগোর জাহাজ নির্মাণশিল্প এবং শিল্পবিপ্লবের প্রতীক, আর ম্যাকিনটশ রোজ ছিল শহরের কল্পনা ও নান্দনিকতার প্রতীক। এই প্রথমবার দুটি ঐতিহ্য একত্রিত হয়ে এমন এক শহরের প্রতিনিধিত্ব করছে যা কখনো সৃষ্টি থামায়নি। গ্লাসগো ২০২৬-এর প্রধান নির্বাহী ফিল ব্যাটি একে গ্লাসগোর সৃজনশীলতা ও সাহসিকতার প্রতিচ্ছবি বলে উল্লেখ করেছেন। কমনওয়েলথ গেমস চলাকালীন টানা দশ সপ্তাহব্যাপী ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও উৎসবের এই আয়োজনে ক্লাইড নদীর দুই তীর থেকেই দৃশ্যমান থাকবে এই ঐতিহাসিক ও নান্দনিক ‘গ্লাসগো রোজ’।
মন্তব্য করুন