স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনাল হারের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থামছে না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের কাছে। সম্প্রতি এক রেডিও সাক্ষাৎকারে কট্টর ডানপন্থী এই প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন যে, জাতীয় দলের সমালোচনা এবং সমর্থকদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগের পেছনে একটি সুসংগঠিত ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা’ কাজ করেছে। তাঁর অভিযোগ, কথিত এই প্রচারণায় অর্থায়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং ব্রাজিল ও মেক্সিকোর সরকার। লিবার্টারিয়ান এই নেতার মতে, মুক্ত চিন্তাধারাকে বাধাগ্রস্ত করতেই প্রগতিশীল মানসিকতার মানুষেরা এই কাজ করেছে।
মিলেইয়ের দাবি অনুযায়ী, এই অর্থায়নের সবচেয়ে বড় অংশ জুগিয়েছে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভার সরকার। গত শনিবার ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত কট্টর ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে লুলাকে ‘চোর’ ও ‘কয়েদি’ বলে আক্রমণ করেন মিলেই। এর আগে স্যামুয়েল এল জ্যাকসনের মতো তারকারা এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বর্ণবাদী আচরণের সমালোচনা করেছিল। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও কমতে থাকা জনপ্রিয়তা থেকে মানুষের মনোযোগ সরাতেই মিলেই এই বহিরাগত ষড়যন্ত্রের তত্ত্বকে সামনে এনেছেন।
ডিজিটাল বিশ্লেষক ও গবেষকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে বৈরী আলোচনার উপস্থিতি লক্ষ করলেও, মিলেইয়ের করা সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র বা অর্থায়নের দাবির পক্ষে জোরালো কোনো প্রমাণ পাননি। সমালোচকদের মতে, ১৯৭৮ সালের সামরিক স্বৈরশাসনের সময়ের মতো আবারও ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা’র জুজু দেখিয়ে অভ্যন্তরীণ সংকট ঢাকতে চাইছে বর্তমান সরকার। মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব ও দুর্নীতির কেলেঙ্কারির মাঝে এমন বয়ান মিলেইকে তাঁর ‘সংস্কৃতি যুদ্ধ’ টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করছে।
মন্তব্য করুন