২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে ফ্রান্সের পারফরম্যান্স যেন নতুন করে পাওয়ার সংকল্পে উদ্দীপ্ত। গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে অপরাজিত থাকার পর রাউন্ড অব ৩২-এও তারা নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। প্রতিটি ম্যাচে তাদের এই দাপুটে জয় ফুটবল বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে এবং অনেকেই তাদের এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় শিরোপার দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করছেন। তবে কাতার বিশ্বকাপের তিক্ত স্মৃতি ভুলে উত্তর আমেরিকার মাটিতে সোনালী ট্রফি পুনরুদ্ধারের এই মিশনটি এমবাপ্পেদের জন্য মোটেও সহজ হওয়ার কথা নয়, কারণ পথে রয়েছে অনেক বড় বড় বাধা।
নকআউটের এই কঠিন যাত্রায় ফ্রান্সের প্রথম লক্ষ্য হলো কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করা। সুইডেনকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা করে নেওয়া ফরাসিদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে তাদের লড়াইটি কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি বড় ধাপ। সুপার কম্পিউটারের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা আকাশচুম্বী, তবে বড় টুর্নামেন্টে যেকোনো সময় যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে মরক্কোর নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে, যারা গত আসরেও চমক দেখিয়েছিল এবং ব্রাজিলকে রুখে দিয়ে নিজেদের শক্তির পরিচয় দিয়েছিল।
টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল পর্যায়ে ফ্রান্সকে হয়তো লড়াই করতে হবে ইউরোপীয় জায়ান্ট স্পেন কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের বিরুদ্ধে। এটি হবে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা লড়াই, যেখানে দিদিয়ের দেশমের কৌশল এবং এমবাপ্পের ক্ষিপ্রতা হবে প্রধান শক্তি। যদি ফ্রান্স এই বাধাগুলো সফলভাবে কাটিয়ে ফাইনালে পৌঁছাতে পারে, তবে শেষ মঞ্চে তাদের জন্য অপেক্ষা করবে লাতিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনা অথবা ব্রাজিল। কাতার বিশ্বকাপের সেই রোমাঞ্চকর ফাইনালের স্মৃতি এখনো অনেকের মনে সতেজ, তাই আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্সের আরেকটি লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য হতে পারে পরম আরাধ্য। আবার পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল যদি তাদের ছন্দ ধরে রাখতে পারে, তবে তাদের বিপক্ষে ফাইনালে খেলা হবে ফরাসিদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষার জায়গা। সব মিলিয়ে ফ্রান্সের শিরোপা জয়ের পথটি অনেকগুলো অগ্নিপরীক্ষার সমষ্টি, যেখানে তাদের প্রতিটি মুহূর্ত হতে হবে সতর্ক এবং সুপরিকল্পিত।
মন্তব্য করুন