বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ঢাকার পাঠানো অনুরোধ নয়াদিল্লির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) লোকসভায় এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। কংগ্রেস সংসদ সদস্য শশী থারুরের সভাপতিত্বে গঠিত এই সংসদীয় কমিটির ‘ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সরকারের নেওয়া এসব পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যমান আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসারে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ যথাযথভাবে পর্যালোচনার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই তাঁকে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকা। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও নয়াদিল্লিকে একই অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে ভারতে অবস্থানকালে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ভার্চ্যুয়াল যোগাযোগ নিয়ে তৈরি হওয়া আলোচনার বিষয়েও পরিষ্কার অবস্থান জানিয়েছে দিল্লি। লোকসভার পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে, চরম সংকট বা অস্তিত্বের হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার ভারতের মানবিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই তাঁকে সেখানে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে ভারতীয় ভূখণ্ড বা কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে স্পষ্ট করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। অন্য দেশের বিরুদ্ধে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার নীতি বজায় রেখেই ভারত সরকার আন্তর্জাতিক দায়িত্ব ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
মন্তব্য করুন