রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আরেকটি নতুন মেট্রোরেল লাইন। দুই দফা বাদ পড়ার পর অবশেষে আলোর মুখ দেখতে চলেছে আলোচিত ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের লাইন-৫ (এমআরটি-৫ দক্ষিণ লাইন)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজধানীর পশ্চিম প্রান্তের গাবতলী থেকে পূর্ব প্রান্তের দাশেরকান্দিতে মাত্র ২৮ মিনিটে যাতায়াত করা সম্ভব হবে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর এখন প্রকল্পটি শুরুর যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
নকশা অনুযায়ী, ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেট্রোরেল রুটের ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার হবে পাতালপথ এবং বাকি ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার উড়ালপথ। এতে মোট ১৫টি স্টেশন থাকবে, যার মধ্যে ১১টি পাতাল ও ৪টি উড়াল স্টেশন। রুটটি গাবতলী থেকে শুরু হয়ে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর এবং নাসিরাবাদ হয়ে দাশেরকান্দিতে গিয়ে শেষ হবে। উড়াল অংশে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার এবং পাতাল অংশে ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার বেগে এই ট্রেন চলাচল করবে।
প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে জানা যায়, যানজট নিরসন ও সময় সাশ্রয়ের এই মেগা প্রকল্পে প্রতিদিন ৯ লাখ ২৪ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। প্রতিটি ট্রেনে একসাথে দুই হাজার ৩১২ জন যাত্রী ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। এর ফলে নগরবাসীর প্রায় ২১ কোটি ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে এবং বাতাসে কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পাবে। বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. হাদীউজ্জামান মনে করেন, প্রকল্পটি অত্যন্ত গণমুখী হলেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগের এই প্রকল্পে স্টেশনগুলোর সঙ্গে যথাযথ আন্তঃসংযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রাক্কলিত ব্যয় পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আগের তুলনায় ব্যয় ৭ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা কমিয়ে ডিপিপি পুনর্গঠন করা হয়েছে। সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশান ফান্ড (ইডিসিএফ) অর্থায়ন করছে ৩২ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা এবং বাকি ১৫ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা যোগান দিচ্ছে সরকার। সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশাকারীর কাজ শেষ হওয়া এই প্রকল্পটি খুব শীঘ্রই একনেক বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন