জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু বর্তমানে এক কঠিন শারীরিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ফুসফুসের সংক্রমণ ও অস্ত্রোপচার পরবর্তী নানা জটিলতা নিয়ে তিনি এখন রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ গাইনোকোলজিক্যাল জরুরি অবস্থা দেখা দেওয়ায় তাঁর পেটের ভেতর অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হয়, যা তাঁকে প্রায় সংজ্ঞাহীন বা ‘শক’ অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল। সেই সংকটময় মুহূর্তে দ্রুত অস্ত্রোপচার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেওয়া রক্তে বড় বিপদ সামাল দেওয়া গেলেও, পরবর্তী ধাপে নতুন কিছু শারীরিক জটিলতা দেখা দিয়েছে।
শনিবার মিতুর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে তাঁর স্বামী এক আবেগঘন পোস্টে এসব তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, অস্ত্রোপচারের পর মিতুর শরীরে সেপটিসেমিয়া, লিভার এনজাইম বৃদ্ধি এবং উচ্চ ডায়াবেটিসসহ ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে, দুদিন আগে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে অক্সিজেন সাপোর্টের ওপর নির্ভর করতে হলেও আগের চেয়ে কিছু প্যারামিটার উন্নতির দিকে, যদিও তিনি এখনো পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নন। সংক্রমণের আশঙ্কায় আপাতত হাসপাতালে কোনো দর্শনার্থী প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
ডা. মিতু যে ক্লিনিকে দীর্ঘ ৯ বছর কাজ করেছেন, নিজের ‘দ্বিতীয় ঘর’ মনে করে সেখানেই বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। তাঁর অনুপস্থিতিতে উদ্বিগ্ন নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আশ্বস্ত করতেই পরিবারের পক্ষ থেকে এই অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে এই মুহূর্তে এক ভঙ্গুর সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন জানিয়ে মিতুর স্বামী দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। পবিত্র রমজানের এই বরকতময় সময়ে সকলের প্রার্থনায় ডা. মিতু দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে সরব হবেন এমনটাই এখন পরিবারের একমাত্র প্রত্যাশা।
মন্তব্য করুন