২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এফ’-এর এক ব্লকবাস্টার ম্যাচে ড্যালাস স্টেডিয়ামে প্রায় ৭০ হাজার দর্শকের সামনে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয়েছিল এশিয়ান পরাশক্তি জাপান। চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও নাটকীয়তায় ঠাসা এই ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। প্রথমার্ধ গোলশূন্য ও কিছুটা ম্যাড়ম্যাড়ে থাকার পর, দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে ৩টি গোল হলে পুরো ম্যাচটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ম্যাচের ৫১ মিনিটে লিভারপুল সতীর্থ রায়ান গ্রাভেনবার্চের ক্রস থেকে চমৎকার এক হেডারে ডাচদের লিড এনে দেন অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইক, যা ছিল তাঁর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম গোল। তবে এর ঠিক ৬ মিনিট পরেই দূরপাল্লার লো-ড্রাইভ শটে জাপানকে সমতায় ফেরান কেইতো নাকামুরা। ৬৪ মিনিটে ডাচদের হয়ে নিজের মাত্র তৃতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা ২৪ বছর বয়সী উইঙ্গার ক্রিসেনসিও সামারভিল এক জাদুকরী বাঁকানো শটে গোল করে নেদারল্যান্ডসকে আবারও ২-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। তবে ডাচদের সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি; ম্যাচের ৮৮ মিনিটে জুনিয়া ইতোর কর্নার থেকে কোকি ওগাওয়ার হেডে বল পোস্টের দিকে যাওয়ার সময় দাইচি কামাদার মাথায় লেগে জালে জড়ায়, আর তাতেই নাটকীয় এক ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে সামুরাই ব্লুরা।
বিশ্বকাপ জেতার লক্ষ্য নিয়ে আসা জাপানের জন্য এই ড্র তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে দলের বেশ কয়েকজন মূল খেলোয়াড় ইনজুরির কারণে দলের বাইরে থাকা সত্ত্বেও দুবার পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর এই মানসিকতা তাদের দীর্ঘ পথ চলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে, ম্যাচে দুবার লিড নিয়েও জয়বঞ্চিত হওয়া ডাচদের জন্য এটি বেশ হতাশাজনক। যদিও এই ড্রয়ের মাধ্যমে গ্রুপ পর্বে নিজেদের অপরাজিত থাকার রেকর্ড ১৭ ম্যাচে উন্নীত করেছে নেদারল্যান্ডস, তবে সুইডেন ও তিউনিসিয়ার মতো কঠিন প্রতিপক্ষের এই গ্রুপে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করা এখন তাদের জন্য কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ল। ম্যাচে ডাচদের হয়ে ভ্যান ডাইক প্রথমার্ধেই ৬৮টি সফল পাস দিয়ে অনন্য রেকর্ড গড়ে ম্যাচসেরা হলেও শেষ মুহূর্তে হেডে পরাস্ত হন। জাপানের পক্ষে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তাদের তরুণ গোলরক্ষক জিওন সুজুকি, যিনি কোডি গাকপো ও ডনিয়েল মালেনের তিনটি নিশ্চিত গোল দুর্দান্তভাবে রুখে দিয়ে জাপানের মূল্যবান ১ পয়েন্ট নিশ্চিত করেন। গ্রুপ পর্বের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে সুইডেন ও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জাপানকে এখন ফেবারিট হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন