|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Jun 27, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশে মিয়াজাকি আমের বাণিজ্যিক চাষ

সবুজ পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা গাঢ় লাল রঙের মিয়াজাকি আম বর্তমানে বাংলাদেশের ফল চাষি ও শৌখিন বাগানীদের মধ্যে এক নতুন স্বপ্নের নাম। জাপানের কিউশু দ্বীপের মিয়াজাকি অঞ্চলে উৎপাদিত এই আমটি বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফলগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। জাপানিরা একে আদর করে ডাকে ‘তাইয়ো নো তামাগো’ বা ‘সূর্যডিম’। এর অসাধারণ মিষ্টতা, মাখনের মতো নরম শাঁস এবং আকর্ষণীয় রঙের কারণে এটি বিশ্বব্যাপী অনন্য একটি ব্র্যান্ড। তবে জাপানের সেই দামি ফল এখন বাংলাদেশের মাটির গুণ ও কৃষিবিদদের প্রচেষ্টায় আমাদের বাগানেই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে এই সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন কৃষিবিদ মীর শাহীনুর রহমান। বিদেশে স্থায়ী হওয়ার সহজ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশের কৃষির প্রতি ভালোবাসার টানে ফিরে এসেছিলেন নাটোরের নিজের গ্রামে। ২০১৪ সালে জাপান থেকে মাত্র পাঁচটি সায়ান বা কলমের অংশ সংগ্রহের মাধ্যমে তিনি এই অভিযানের সূচনা করেছিলেন। শুরুর দিকে স্থানীয়ভাবে অনেকেই এই বিদেশি জাতের সফল চাষ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন এবং অনেক চারাগাছ মারা যাওয়ায় তিনি প্রতিকূলতারও সম্মুখীন হয়েছিলেন। তবে কঠোর পরিশ্রম ও গবেষণানির্ভর কৃষি পদ্ধতি তাকে শেষ পর্যন্ত সফল করেছে। বর্তমানে সারাদেশে ৫০ হাজারের বেশি মিয়াজাকির চারা বিক্রি হয়েছে এবং তিনি নিজেও একটি বিশাল বাণিজ্যিক বাগান গড়ে তুলেছেন।

মিয়াজাকি আমের উৎপাদন জাপানে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ও প্রযুক্তিগত পরিবেশে করা হয়, যেখানে গ্রিনহাউস, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং আলোর প্রতিফলন ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশে উৎপাদন ব্যবস্থা এবং জলবায়ু জাপানের চেয়ে ভিন্ন হওয়ায় এর বাজারমূল্যও ভিন্ন। যেখানে জাপানে এক জোড়া মিয়াজাকি আম চার লাখ টাকার বেশি দামে বিক্রি হওয়ার নজির রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশে তা কেজিপ্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের আবহাওয়ায় মিয়াজাকি চাষের উপযোগী মাটি ও পরিবেশ রয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক মানের ফল পেতে উন্নত ব্যবস্থাপনা, সঠিক পরিচর্যা এবং মান নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই।

এই আমের চাষাবাদ খুব একটা সহজ নয় কারণ এটি রোগবালাই ও পোকামাকড়, বিশেষ করে মাছির আক্রমণের প্রতি বেশ সংবেদনশীল। ড. মো. মেহেদী মাসুদসহ কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, মিয়াজাকির আসল লাল রঙ পাওয়ার জন্য প্রতিটি ফলে পর্যাপ্ত সূর্যালোক পৌঁছানো নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। দেশের পার্বত্যাঞ্চলসহ সমতল এলাকাগুলোতেও এখন এই আমের চাষ ছড়িয়ে পড়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মিয়াজাকি আমের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং চলতি অর্থবছরে এটি ৩০ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেছে। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে মিয়াজাকি আম বাংলাদেশের কৃষিখাত ও রপ্তানি বাজারে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল স্থগিত চাওয়া রিট খারিজ: হাইকোর্

1

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

2

বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় সর্বাত্মক পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ প্রতি

3

বাংলাদেশে লঞ্চ হলো নতুন স্মার্টফোন Vivo Y500: জেনে নিন বিস্ত

4

নেপালে আকস্মিক বন্যা: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২, নিখোঁজ শতাধিক ব

5

বাবাকে হারিয়েও থামেনি জীবন, রাতে চাকরি ও সকালে এইচএসসি পরীক্

6

বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক

7

জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ: বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগার

8

হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

9

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন: ফরম নিলেন রাষ্ট্রপতির ভাই

10

ঢাবিতে ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, ২ জন অব্যাহতি

11

মুক্তিসংগ্রামের দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ঢাবিতে নতুন প্র

12

নোরার গানে ‘অশ্লীলতা’: কঙ্গনার তোপ ও ইউটিউব থেকে গান উধাও!

13

Vitória-কে বড় ব্যবধানে হারিয়ে Brasileirao-এর শীর্ষে ব্যবধান

14

ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে নাম প্রত্যাহার ওয়াশিংটন

15

অপ্টার বিশ্লেষণে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর জয়ের সম্ভাবনা

16

স্নাতক পরীক্ষার শেষ দিনে ভিয়েতনামে বজ্রঝড়ের শঙ্কা

17

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষণা ও উদ্ভাবনে অগ্রাধিকার দেওয়া

18

এমবাপ্পের চোট নিয়ে কাটছে না রহস্য, মাঠে ফেরা নিয়ে বাড়ল অনিশ্

19

হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত: ২৪ ঘণ্টায় ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্

20