জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১ লাখের মাইলফলক ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বর্তমানে জাপানে মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জন শতায়ু মানুষ রয়েছেন, যা বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ এবং এর মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশই নারী। দেশটির বার্ষিক ‘বয়স্কদের প্রতি সম্মান’ দিবস উপলক্ষে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে সরকারের পক্ষ থেকে শতবর্ষী প্রবীণদের ঐতিহ্যবাহী মদের পেয়ালা ও ব্যক্তিগত চিঠি উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানিদের দীর্ঘায়ুর প্রধান রহস্য হলো তাদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও সক্রিয় জীবনযাপন। দেশটির ঐতিহ্যবাহী খাবারে মাছ, শাকসবজি ও ভাতের প্রাধান্য থাকার পাশাপাশি সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ বেশ কম থাকে। এছাড়া বয়স্ক জাপানিরা নিয়মিত হাঁটাচলা, সাইকেল চালানো এবং শরীরচর্চার মাধ্যমে নিজেদের শরীর সক্রিয় রাখেন। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে মানুষের গড় আয়ু বাড়লেও একই সঙ্গে দেশটিতে বড় ধরনের জনমিতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। জাপানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশের বয়স এখন ৬৫ বছর বা তার বেশি, যা ২০৭০ সালের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দীর্ঘায়ুর এই ইতিবাচক খবরের পাশাপাশি দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জন্মহার হ্রাসের সংকট চলছে। গত বছর জাপানের মোট প্রজনন হার রেকর্ড সর্বনিম্ন ১ দশমিক ২০১৪-তে নেমে গেছে, যার ফলে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটিতে শিশুদের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার বেশি বিক্রি হচ্ছে। বিয়ের হার কমে যাওয়া, নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সন্তান লালন-পালনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে সরকার নানা প্রণোদনা ও ভর্তুকি দিয়েও জন্মহার বাড়াতে সফল হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই পরিস্থিতিকে ‘নীরব জরুরি অবস্থা’ ও ‘অস্তিত্বের সংকট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ১৯৬৩ সালে জাপানে প্রথম যখন শতায়ু মানুষের হিসাব শুরু হয়েছিল, তখন এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১৫৩ জন; সেখান থেকে আজ ১ লাখে পৌঁছানো যেমন দেশটির চিকিৎসা ব্যবস্থার সফলতা নির্দেশ করে, তেমনই ভবিষ্যৎ জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
মন্তব্য করুন