জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এক আবেগঘন মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন। গত ৭ জুলাই সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার এই সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন তিনি। একদিকে বড় ছেলে আব্দুল্লাহকে হারানো, অন্যদিকে ছোট ছেলে মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের ক্যানসারের যন্ত্রণা এবং কিছুদিন আগে স্বামীকে হারানোর পর এই পরিবারটি চরম বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও সহানুভূতি তাদের মানসিকভাবে কিছুটা আশ্বস্ত করেছে।
ফাতেমা তুজ জোহরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছানোর পর তাদের প্রতি যে সম্মান ও মমতা প্রদর্শন করা হয়েছে, তা ছিল সত্যিই বিরল। প্রধানমন্ত্রী নিজে জিসানকে কাছে ডেকে নেন এবং পরম স্নেহে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন। এর আগে একটি অনুষ্ঠানে জিসানকে কাছে না পাওয়ার আক্ষেপ ছিল প্রধানমন্ত্রীর, সেই আক্ষেপ থেকেই তিনি বিশেষভাবে তাদের ডেকে পাঠান। জিসানের সঙ্গে ছবি তোলার সময় প্রধানমন্ত্রীর হাসিমুখ এবং সহজ-সরল আচরণ দেখে তারা মুগ্ধ হয়েছেন।
সাক্ষাৎকারে ফাতেমা তুজ জোহরা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততা এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সত্ত্বেও তিনি যেভাবে সময় দিয়েছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। জিসানের প্রতি তার স্নেহ এবং ফাতেমা তুজ জোহরাকে চাকরির আশ্বাস দেওয়া এই পুরো বিষয়টি তাদের পরিবারের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর গভীর সংবেদনশীলতার পরিচয় দেয়।
তৃণমূল মানুষের দুঃখ-কষ্ট শোনার মানসিকতা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর এই অনন্য সাধারণ অমায়িকতা দেশের সাধারণ মানুষের মনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আস্থা ও ভালোবাসার জায়গা আরও দৃঢ় করেছে। একজন শাসকের হৃদয়ে যে সাধারণ মানুষের জন্য কতটা ভালোবাসা থাকতে পারে, তা শহীদ আব্দুল্লাহর পরিবারের এই সাক্ষাতের ঘটনাটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে। এই মানবিক উদ্যোগটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
মন্তব্য করুন