ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো এবং পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
ইরানের সঙ্গে চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ইতিহাসে যদি প্রথমবারের মতো এই দানবীয় বোমাটি ব্যবহার করা হয়, তবে তা বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর সংঘাতকে চরম অবনতি ও নজিরবিহীন উত্তেজনার দিকে ঠেলে দেবে। তবে মার্কিন অভ্যন্তরীণ সামরিক পরিকল্পনা ও কৌশলগত আলোচনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন কিংবা যুদ্ধের গতিপথ চিরতরে বদলে দিতে এই বোমা কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে খোদ পেন্টাগন ও সামরিক বাহিনীর ভেতরের কর্মকর্তাদের মধ্যেই যথেষ্ট দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। কারণ মূলত বিশাল এলাকার ভূগর্ভস্থ বা উপরিভাগের স্থাপনা উড়িয়ে দিতে এটি উপযোগী হলেও গভীর সামরিক বঙ্কার বা শক্ত পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য এটি পুরোপুরি ডিজাইন করা হয়নি।
মার্কিন জনগণের কাছে ক্রমেই অপ্রিয় হয়ে ওঠা এই দীর্ঘমেয়াদী মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অবসান ঘটাতে বর্তমানে তীব্র রাজনৈতিক ও মানসিক চাপের মুখে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। টানা ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র বোমাবর্ষণের পরও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো ধরনের স্থায়ী সমঝোতামূলক চুক্তির স্পষ্ট আলামত পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ নিয়ে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী ট্রাম্পকে ইরানের অবশিষ্টাংশ ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার একের পর এক নতুন সামরিক বিকল্প প্রস্তাব করলেও, যুদ্ধটি স্থায়ীভাবে শেষ করার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট বা সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান ওয়াশিংটনের হাতে আছে কি না, তা নিয়ে আড়ালে সংশয় প্রকাশ করছেন পেন্টাগনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা। পর্দার আড়ালে ট্রাম্প তার সেই সব সহযোগীদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, যারা তাকে কোনো সুনির্দিষ্ট বিজয় ছাড়াই সেনাদের দেশে ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দিচ্ছেন। কারণ কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়া সেনা প্রত্যাহার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চরম পরাজয় হিসেবে গণ্য হবে বলে মনে করেন তিনি।
মন্তব্য করুন