ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর মধ্যে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের দিকে এবং অপরটি দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, রিয়াদমুখী দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পরে সৌদি আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেগুলো বাধা দিয়ে ধ্বংস করা হয়।
আল-মালিকি হুতিদের ‘সন্ত্রাসী মিলিশিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইয়েমেন থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে আসছিল। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো শনাক্ত করে এবং সৌদি আকাশসীমায় পৌঁছানোর আগেই প্রতিহত করে।
জোটের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, একই সময়ে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকেও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। সেটিও জোটের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মোকাবিলা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। হুতিদের পক্ষ থেকেও এ হামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন করে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সৌদি রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো অতীতেও হুতিদের হামলার লক্ষ্য হয়েছে।
ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। গোষ্ঠীটি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব ও দেশটির আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে ইয়েমেনের সংঘাতের প্রভাবও আঞ্চলিক পর্যায়ে আরও বিস্তৃত হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সর্বশেষ এই দাবি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইয়েমেনকে ঘিরে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং হুতিদের সঙ্গে সংঘাত ফের তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য করুন