মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত নির্মাণাধীন ডারখোভিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা রোববার (১৯ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতির মাধ্যমে এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তেহরানের পক্ষ থেকে এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী ও উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সুরক্ষায় থাকা একটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় এমন আগ্রাসন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কোনো কূল-কিনারা দেখা যাচ্ছে না। গত জুন মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশ শান্তি ও যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করলেও, বাস্তবে সেই প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়ে পড়েছে। শান্তি আলোচনাকে অগ্রাহ্য করে বর্তমানে উভয় পক্ষই একে অপরের সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এবং ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে অঞ্চলটি এখন একটি ভয়াবহ যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, যেখানে কূটনৈতিক আলোচনার চেয়ে সামরিক শক্তির প্রদর্শনীই প্রাধান্য পাচ্ছে। হামলার পরবর্তী প্রভাব এবং ইরান এর পাল্টা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য করুন