কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের কচি সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এখন সেই সন্তানকে নানাভাবে অপরাধ ও মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে কুৎসা রটানোর অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন শোকার্ত এই মা। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি এই বিস্ফোরক ও হৃদয়বিদারক অভিযোগ করেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ড. নাহিদা বেগম বলেন, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফেক আইডি থেকে আমার মৃত ছেলেকে নানা উপায়ে অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে ফাসানোর ঘৃণ্য চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরুতে আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করেছি, তখন ক্যাম্পাসের অনেক মাদকসেবী ও চিহ্নিত মাদক কারবারিকে পুলিশে সোপর্দ করেছিলাম। যদি সেই সাহসী ভূমিকার কারণে আমার পরিবারকে টার্গেট করা হয়ে থাকে, তবে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি আরও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, আমার কোনো ভুল বা দোষ থেকে থাকলে আমাকে শাস্তি দেওয়া হোক। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে, তবে তার যে শাস্তি প্রাপ্য আমি মাথা পেতে নেব। কিন্তু এর জন্য আমার অবুঝ ছেলেকে কেন প্রাণ দিতে হলো? কেন আমার ছেলেকে এভাবে মেরে ফেলা হলো?
অপ্রতিমকে মাদক ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত করার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই শিক্ষিকা বলেন, আমার ছেলেকে অপরাধীদের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যে সেও তাদেরই একজন ছিল। অথচ আমার ছেলেটি একদম নিষ্পাপ ছিল, সে এসবের বিন্দুমাত্র কিছু বোঝত না।
শুধু নিজের সন্তানের জন্য নয়, বরং গোটা সমাজের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি বলেন, আমি কেবল আমার সন্তানের বিচার চেয়ে চুপ থাকতে চাই না। যারা আমার বুক খালি করেছে, তারা যদি জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবার বাইরে আসে, তবে তারা আরও কত মায়ের বুক খালি করবে, কত শিশুর জীবন ধ্বংস করবে সেই আশঙ্কায় আমি আতঙ্কিত। আমি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।
মন্তব্য করুন