ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনে চলমান হামলায় ব্যবহারের উদ্দেশ্যে পশ্চিম রাশিয়ায় উত্তর কোরিয়ার একটি বিশেষ মিসাইল ইউনিট মোতায়েন শুরু হয়েছে। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আন্দ্রি চেরনিয়াক জানিয়েছেন, এই নতুন সামরিক পদক্ষেপে প্রায় ৯০ জন উত্তর কোরীয় সেনাসংবলিত ইউনিটটিকে রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চলে অবস্থিত ১১২তম মিসাইল ব্রিগেডের অধীনে মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। পিয়ংইয়ং ইতোমধ্যে ৪০টি কেএন-২৩ এবং কেএন-২৪ মিসাইলসহ একটি দল সেনাকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছে, এবং আগামী মাসের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই বহরে মোট ১২০টি উত্তর কোরীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ছয়টি লঞ্চার যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তীব্র সংকটের সুযোগ নিতেই মস্কো এই ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ক্রেমলিন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যকার পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা ও মৈত্রী নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এর আগে উত্তর কোরিয়া মস্কোকে লাখ লাখ আর্টিলারি শেল এবং কুরস্ক অঞ্চলে হাজার হাজার সেনা সরবরাহ করলেও বর্তমান এই মিসাইল মোতায়েনকে ইউক্রেনের জন্য আরও বড় ও মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ফিলাডেলফিয়ার থিংক ট্যাংক ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো রব লি সতর্ক করে বলেছেন যে, ব্যালিস্টিক মিসাইল ইন্টারসেপ্ট বা ধ্বংস করা ইউক্রেনের অন্যতম বড় দুর্বলতা। বিশেষ করে আসন্ন শীতে ইউক্রেনের পাওয়ার গ্রিড ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব স্বল্প নির্ভুল কিন্তু ভারী পেলোডবাহী কেএন-২৩ ও কেএন-২৪ মিসাইল ব্যবহারের মাধ্যমে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। গত সপ্তাহেও ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলে উত্তর কোরীয় মিসাইল হামলায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
মন্তব্য করুন