আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি ঘোষণা দিয়েছেন যে, সংস্থার পারমাণবিক পরিদর্শকরা শীঘ্রই ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনে যাবেন। বুধবার (২৪ জুন) এক বক্তব্যে তিনি এই সফরটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এটি ঘটবেই’। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মাঝে এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আইএইএ-এর এই পরিদর্শনের বিষয়টি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে ঘিরে তৈরি হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসন করা। তবে এই পরিদর্শনের সময়সূচি এবং শর্তাবলী নিয়ে ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে, যা চুক্তির ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলছে।
তেহরানের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন অবস্থান জানানো হয়েছে। একজন ইরানি কূটনীতিকের মতে, চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরিদর্শকের সফর সম্ভব নয়। মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সংঘাত-সংক্রান্ত ধারাগুলো নিয়ে উভয়পক্ষের অবস্থানে এখনো স্পষ্ট দূরত্ব রয়েছে। ফলে গ্রোসির আশাবাদী মন্তব্যের বিপরীতে ইরানের এই কঠোর অবস্থান চুক্তির বাস্তবায়নে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূ-রাজনীতিতে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। এখন দেখার বিষয়, আইএইএ ও ইরানের মধ্যে এই অচলাবস্থা কাটিয়ে কূটনৈতিক কোনো সমাধান দ্রুত সম্ভব কি না।
মন্তব্য করুন