केवल প্রতিবেশীদের মৌখিক সন্দেহ বা দাবির ওপর ভিত্তি করে কোনো ব্যক্তিকে ‘বাংলাদেশি’ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে জোরপূর্বক দেশ থেকে বহিষ্কার করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন কলকাতা হাইকোর্ট। মুর্শিদাবাদের এক ব্যক্তির আটকাদেশ ও তার বহিষ্কারের নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা এক রিট মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণশুনানিতে আদালতের নজরে আসে যে, ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস বা এফআরও-এর জার্মানি বা নির্দিষ্ট দপ্তরের নির্দেশে কেবল কিছু প্রতিবেশীর সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে ওই ব্যক্তিকে দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আটকে রাখা হয়েছিল এবং তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো যথাযথ সুযোগ দেওয়া হয়নি। এ সময় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, উপযুক্ত ও প্রমাণযোগ্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কীভাবে কেবল ধারণার বশে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় এবং তাকে আটকে রাখা সম্ভব?
বিচারপতি আরও মন্তব্য করেন যে, সত্তরের দশক থেকে কত মানুষ সীমান্ত পার হয়ে এপারে এসেছে, তাদের সবাইকে কি এ প্রক্রিয়ায় হুট করে ফেরত পাঠানো বাস্তবসম্মত? সরকারের উচিত যেকোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই করা এবং নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত ওই ব্যক্তির ওপর জারি করা বহিষ্কারের আদেশটি আপাতত স্থগিত (অ্যাবায়েন্স) রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং মামলাটি উপযুক্ত বেঞ্চে স্থানান্তরের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে ফেরত পাঠিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলা বিতর্কের মাঝে হাইকোর্টের এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।