অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন অঞ্চলে অবিরাম সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। বৃহস্পতিবার গাজার বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও গোলার আঘাতে এক নারীসহ অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও বারো জনেরও বেশি মানুষ। আন্তর্জাতিক মহলের যুদ্ধবিরতির আহ্বান ও নানা উদ্যোগের মধ্যেও অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে প্রতিদিন ঝরছে সাধারণ মানুষের প্রাণ।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ছয়জনই প্রাণ হারিয়েছেন একাই গাজা সিটির বিভিন্ন এলাকায়। গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমে আল-তাওয়াম এলাকার মিসরীয় ক্যাম্পে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি হামলায় মোহাম্মদ রাজাব ওয়ারশ আগা নামের এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়ে পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়া গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলায় এক নারী ও এক শিশু প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। শহরটির দক্ষিণাঞ্চলের তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় দুজন নিহত ও তিনজন আহত হন। আমের প্রজেক্ট এলাকায় আরেকটি তাঁবুতে গোলাবর্ষণে আহলাম মুবারক (৩০) নামের এক ফিলিস্তিনি নারী নিহত এবং তার স্বামী ও দুই সন্তান আহত হয়েছেন। পাশাপাশি, উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনীর গোলাবর্ষণ এবং রাফাহ ও খান ইউনিস অঞ্চলেও তীব্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক তা লঙ্ঘনের ঘটনায় গাজায় মোট ১ হাজার ৪৬৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৫ হাজার ১৬১ জনেরও বেশি। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ সংঘাতে এখন পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজারের অধিক মানুষ। হামলায় উপত্যকাটির প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বর্তমানে ৬০ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করলেও থামছে না এই ধ্বংসযজ্ঞ।
মন্তব্য করুন