বলিউডে কোনো অভিনেতা বা অভিনেত্রীর সুপরিচিতি গড়ে তুলতে যেখানে বহু বছর বা একাধিক ছবির প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র একটি ছবি দিয়েই রাতারাতি সেনসেশন হয়ে উঠেছিলেন নবাগত এক তারকা। কিন্তু সাফল্যের ঠিক সেই உச்ச থেকেই আচমকা রুপোলি দুনিয়া থেকে একেবারে উধাও হয়ে যান তিনি। লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের ঝলকানি ও তারকাখ্যাতির মোহ এড়িয়ে বিগত ২৪ বছর ধরে এক প্রকার নিভৃতবাসেই জীবন কাটাচ্ছেন নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় সেই অভিনেত্রী। বলছি ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া বিক্রম ভট্টের সুপারহিট ভৌতিক ছবি ‘রাজ’-এর কথা। ডিনো মোরিয়া ও বিপাশা বসুর সেই আলোচিত সিনেমায় ‘অশরীরী’র চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে হিল্লোল তুলেছিলেন নবাগত মডেল ও অভিনেত্রী মালিনী শর্মা।
ছবির ব্যাপ্তি খুব বড় না হলেও, নিজের নিখুঁত অভিনয়, বাচনভঙ্গি, স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর এবং বিশেষ করে ‘আপকে পেয়ার মে’ গানে তাঁর মোহময় উপস্থিতি মালিনীর সংক্ষিপ্ত বলিউড ক্যারিয়ারে এক গভীর ছাপ ফেলেছিল। বক্সঅফিসে ছবিটি ঝড় তুললেও এরপরেই বড়পর্দা থেকে নিজেকে চিরতরে গুটিয়ে নেন তিনি। বলিপাড়ার অনেকের মতে, সে সময় ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহবিচ্ছেদের বেদনা এবং মানসিক শান্তি পাওয়ার জন্যই তিনি জনসমক্ষ থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে মুম্বইয়ের আলোর রোশনাই ও প্রচারের আলো থেকে শতহস্ত দূরে একেবারে নিস্তব্ধ এক জীবন বেছে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
পাহাড় ও প্রকৃতির মাঝে মালিনীর বর্তমান আস্তানা বলিউডকে চিরবিদায় জানিয়ে মালিনী শর্মা এখন থিতু হয়েছেন ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালার সহ্যাদ্রি অঞ্চলে। পাহাড়ের কোলে জঙ্গলঘেরা এক মনোরম পরিবেশে ফার্মস্টে চালিয়ে তিনি অত্যন্ত শান্ত ও ছিমছাম জীবনযাপন করছেন। চলচ্চিত্র জগৎ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে তিনি এখন নিজের জীবনকে বেঁধে ফেলেছেন গাছপালা, মাটি আর প্রকৃতির সঙ্গে। সেখানে নিজের হাতে নানা ধরনের শাকসবজি ও ফসল ফলান, আর সেই তাজা খেতের ফসল দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করেন। এছাড়া নিজ হাতে সেরামিক ও কুরুশের বুননশিল্প তৈরি, ঘরে কেক ও অর্গানিক খাবার বানানোর মাঝেই নিজের সময় কাটিয়ে দেন তিনি।
প্রায় এক দশক আগে তিনি একটি নিজস্ব উদ্যোগ বা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশীয় হস্তশিল্প, ঘরে তৈরি খাবার, গ্রানোলা, জ্যাম, পিনাট বাটার এবং দক্ষিণ ভারতীয় কফি বিক্রি করা হয়। শিশুদের জন্য গল্প বলার আসর ও নানা কর্মশালার আয়োজনও করে থাকে তাঁর প্রতিষ্ঠানটি। মজার বিষয় হলো, নিজের এই উদ্যোগের প্রচারে তিনি কখনোই নিজের পুরোনো তারকা পরিচিতিকে ব্যবহার করতে চাননি; বরং একজন স্বাধীন উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত পেতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সম্প্রতি নিজের খামারের জীবন নিয়ে তৈরি একটি ভিডিওতে দীর্ঘ দুই দশক পর ক্যামেরার সামনে এসে তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, “আপনারা যাঁরা ভাবছিলেন আমি কোথায় উধাও হয়ে গিয়েছিলাম, তাঁদের বলি, আমি বেঁচে আছি।” গ্ল্যামার দুনিয়ার কৃত্রিম আলো ছেড়ে পাহাড়ের খাঁজে প্রকৃতির সান্নিধ্যে এক অদ্ভুত আত্মিক শান্তি খুঁজে নিয়েছেন মালিনী শর্মা।
মন্তব্য করুন