পুরান ঢাকার মুরগিটোলা মোড়ে জুতা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সাংবাদিকসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।
পুরান ঢাকার মুরগিটোলা মোড় এলাকায় একটি তুচ্ছ জুতা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং পুলিশের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত ১টার দিকে ঘটা এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিক এবং পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার সূত্রপাত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বাসা থেকে জুতা চুরির অভিযোগ নিয়ে। সিসিটিভি ফুটেজে মাইকেল নামে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করার পর শিক্ষার্থীরা তাকে আটকে রাখলে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে অভিযুক্তকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, যা পরবর্তীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
এক পর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিরাপত্তা দিয়ে বের করে আনার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বেধে যায় এবং পুলিশ লাঠিচার্জ করলে অন্তত ৮ জন শিক্ষার্থী আহত হন। সংঘর্ষের সময় দৈনিক সময়ের জবি প্রতিনিধি অপূর্ব রয় ছবি তোলার সময় পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হন এবং গুরুতর আঘাত পান। একই সঙ্গে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার জবি প্রতিনিধি লিমন ইসলামসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং মার্কেটিং বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
আহতদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল ও রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষের রেশ ধরে শিক্ষার্থীরা রাত আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মুরগিটোলা মোড় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরবর্তীতে পুলিশ মূল অভিযুক্ত মাইকেল ও আসিকুর রহমান আশিককে আটক করেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন পুলিশের এই লাঠিচার্জের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন। গেন্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন যে, এই ঘটনায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারসহ (এডিসি) মোট পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।