সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত। ঢাকার ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে সোহেল আহমেদ ভাটের জোড়া গোল এবং মাংলেনথাং কিপগেনের এক গোলে প্রথমার্ধেই ৩-০ তে এগিয়ে যায় দ্বিতীয় সারির ভারতীয় দলটি।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কষ্টার্জিত জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ম্যাচে ভারতের দ্বিতীয় সারির দলটি জয় ছিনিয়ে নেয়। চলমান আইএসএল (ISL) এবং আন্তর্জাতিক বিরতিতে মূল দলের নিউজিল্যান্ড সফরের কারণে তরুণ ও বিকল্প খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত দল নামিয়েছিলেন ভারতীয় কোচ নৌশাদ মুসা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ভারতীয় তরুণ দল। প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে টানা তিন গোল আদায় করে নেয় ভারত। দলের তরুণ ফরোয়ার্ড সোহেল আহমেদ ভাট চমৎকার এক দলীয় আক্রমণ থেকে মোহাম্মদ সোহেলের নিচু ক্রসে আলতো ছোঁয়ায় প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। কিছুক্ষণ পর পাকিস্তান গোলরক্ষক ইউসুফ বাটকে একা পেয়ে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন সোহেল ভাট। এরপর নোফালের বানিয়ে দেওয়া পাস ধরে চমৎকার এক ফিনিশিংয়ে মাংলেনথাং কিপগেন গোল করলে প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই ভারত নিজেদের ব্যবধান আরও বাড়াতে পারতো। তবে ভারতের রক্ষণের ভুলে পেনাল্টি পেলেও পাকিস্তানের শায়ক দোস্ত তা গোলপোস্টের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মেরে সুযোগ হাতছাড়া করেন।
দ্বিতিয়ার্ধে কিছুটা ঢিলেঢালা ফুটবল খেলে ভারতীয় দল, অন্যদিকে সাবেক পেরুভিয়ান তারকা ও পাকিস্তান কোচ নোলেবার্তো সোলানোর শিষ্যরা খেলার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। ম্যাচের একেবারে শেষভাগে ইনজুরি টাইমে চমক দেখায় পাকিস্তান। জুনায়েদ শাহর দুর্দান্ত ক্রস থেকে হেড করে নজিবুল্লাহ পাকিস্তানকে প্রথম গোল (৩-১) এনে দেন। এর মাত্র দুই মিনিট পর আলমগীর গাজী এক অসাধারণ দর্শনীয় গোলে ব্যবধান ৩-২ এ নামিয়ে আনেন। তবে এই প্রতিরোধ অনেক দেরিতে আসায় হারের মুখ থেকেই ফিরতে হয়েছে পাকিস্তানকে।
ম্যাচ শেষে পাকিস্তান মিডফিল্ডার আলমগীর গাজী বলেন, "আমাদের প্রথমার্ধটি ভালো কাটেনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ভালো খেলেও খুব দেরিতে গোল পেয়েছি।" গতকাল দলের অনুশীলন না করার পেছনে হাসিমুখে লগেজ হারিয়ে যাওয়ার অজুহাত দেন তিনি। তবে মালদ্বীপের বিরুদ্ধে পরবর্তী ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে সেমিফাইনালে ওঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এই পাকিস্তানি ফুটবলার।