ক্ষমতায় আসার প্রথম বছরেই বড় ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার অজুহাতে দেশে একলাফে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১৭.৪ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর পরপরই এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) হতাশাজনক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রকাশিত হওয়ায় দেশজুড়ে নতুন করে সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হচ্ছে।
ডিজেলের দাম ১৭.৪ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা এবং অন্যান্য জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি করায় ইতোমধ্যে গণপরিবহন, পণ্য পরিবহন ও কৃষিখাতে তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের অজুহাতে সড়ক ও নৌপথে বাস এবং লঞ্চের ভাড়া আনুপাতিক হারের চেয়েও বেশি বাড়ানো হয়েছে, যা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিয়েছে। সরকার ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) থেকে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, লোকসান নিয়ন্ত্রণ এবং পার্শ্ববর্তী দেশে জ্বালানি পাচার রোধে এই দাম বাড়ানো অনিবার্য ছিল। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আয় না বেড়ে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের আঘাত এনেছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে এডিবি-এর সাম্প্রতিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাসের কারণে। সংস্থাটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে মাত্র ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে এবং গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৯ শতাংশে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সাথে প্রবৃদ্ধির এই মন্দা দেশকে 'স্ট্যাগফ্লেশন' বা অর্থনৈতিক স্থবিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দীর্ঘদিন পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিপুল জনমত নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকারের জন্য এটি কেবল অর্থনৈতিক সংকট নয়, বরং একটি বড় রাজনৈতিক পরীক্ষার শামিল। জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠলে তা রাজপথে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে, যা নতুন সরকারের ভাবমূর্তি ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলবে।
মন্তব্য করুন