প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পাঠানোর নামে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের গোডাউন থেকে উচ্চ শুল্কের ভারতীয় পণ্য পাচারের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২২ জুন) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বেনাপোল বাজার এলাকায় বিজিবি অভিযান চালিয়ে একটি কাভার্ডভ্যান থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ করে। এই ঘটনায় কাস্টমসের দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) ও তিন সিপাহীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শ্রী ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী, কাভার্ডভ্যানের চালক মো. মহসিন আলী ও হেলপার মো. জাহিদ হাসান রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া পণ্যের তালিকায় রয়েছে উচ্চ শুল্কের শাড়ি, থ্রিপিস, কসমেটিকস এবং আমদানি নিষিদ্ধ বিভিন্ন ওষুধ। জব্দকৃত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বিজিবি ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে উদ্ধারকৃত পণ্যের হিসাব ও সিজারমূল্য নির্ধারণের কাজ করছে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে কাস্টমসের পাঁচ কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের মাধ্যমে দুর্নীতি রোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক সময়ে বেনাপোল বন্দরে পণ্য চুরি ও জালিয়াতির একের পর এক ঘটনায় বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এই গুরুতর অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে বলেছেন, ত্রাণ তহবিলের মতো রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের আড়ালে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্দরের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে এবং প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এর আগে বন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে ৬ কোটি টাকার পণ্য উধাও ও ৪১ নম্বর শেড থেকে ২৫ টন পণ্য নিখোঁজ হওয়ার মতো ঘটনাগুলো বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। নতুন এই ঘটনা বন্দরের তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আরও বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
মন্তব্য করুন