গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নেত্রকোনা পৌরশহরের বড়বাজার এলাকা থেকে মো. কারিম নামের এক সন্দেহভাজন রোহিঙ্গা যুবককে আটক করেছে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ। সোমবার রাত ১০টার দিকে ওই এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশি হেফাজতে থাকা ওই যুবক নিজেকে কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার পালংখালী এলাকার রাফিক আহমেদের ছেলে বলে দাবি করেছেন। তবে তার কথাবার্তা ও আচরণে ব্যাপক অসঙ্গতি থাকায় পুলিশের ধারণা তিনি মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিক। অবৈধ উপায়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে কারিম কেন নেত্রকোনায় অবস্থান করছিলেন তা জানতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে গত শনিবার চট্টগ্রাম থেকে সোনার তরী পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে চড়ে নেত্রকোনায় আসেন কারিম। এরপর তিনি শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকার একটি স্থানীয় আবাসিক হোটেলে ছদ্মনামে অবস্থান করছিলেন। সোমবার রাতে বড়বাজার এলাকায় তার চলাফেরা ও কথাবার্তা স্থানীয়দের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়। পরবর্তীতে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে তথ্য উঠে আসে যে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে ভুয়া পরিবার ও জাল ঠিকানা ব্যবহার করে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন এবং পাসপোর্ট তৈরির উদ্দেশ্যে তিনি নেত্রকোনায় এসেছিলেন। পরবর্তীতে ওই অবৈধ পাসপোর্ট ব্যবহার করে আকাশপথে সৌদি আরবে পাড়ি দেওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল তার। তবে নেত্রকোনা অঞ্চলে সক্রিয় থাকা সংশ্লিষ্ট দালাল চক্রের মূল হোতাদের নাম কিংবা সঠিক ঠিকানা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে কারিম পুলিশের কাছে দাবি করেন যে তার কাছে কোনো বৈধ পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নেই এবং তার মা রোকিয়া সৌদি আরবে মারা গেছেন। নিজের পারিবারিক শিকড় ও দীর্ঘদিনের হারিয়ে যাওয়া আত্মীয় স্বজনদের খুঁজে বের করার আশায় তিনি নেত্রকোনায় এসেছেন বলেও একপর্যায়ে দাবি করেন তিনি।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন সরকার এই বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন যে আটক যুবককে থানায় রেখে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য ও তার কথা বলার ধরন অনুযায়ী আমরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি যে তিনি বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক নন এবং তিনি একজন রোহিঙ্গা হতে পারেন। তার দেওয়া তথ্যগুলো শতভাগ যাচাই বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট দালাল চক্রকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং একই সাথে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আটক যুবকের প্রকৃত পরিচয় ও নেত্রকোনায় আসার মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন