চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির রাঙ্গামাটিয়া রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে জায়গা দখল ও ফলদ গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও কৃষি উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, বাগান কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই আম, কাঁঠালসহ কয়েক শতাধিক ফলদ গাছ কেটে ফেলেছে। তবে বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আনীত সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ভুক্তভোগী আমিনুল হক ও আহমদুল হকের দাবি, তাদের বংশপরম্পরায় ভোগদখলীয় জমিতে রোপণ করা কয়েক শতাধিক গাছ বাগান কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে কেটে ফেলেছে। তাদের ভাষ্যমতে, জমিটি রাবার বাগানের সীমানা থেকে অনেক দূরে অবস্থিত এবং দীর্ঘ ১০০ বছর ধরে তাদের পরিবার এখানে চাষাবাদ করে আসছে। এছাড়া কৃষি উদ্যোক্তা ওয়াহিদ কাউসার মওলা হিরুও অভিযোগ করেছেন যে, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা তার আমবাগানের কয়েকশ গাছ একইভাবে নিধন করা হয়েছে। এতে তারা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।
অন্যদিকে, রাঙ্গামাটিয়া রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক কে এম মাহবুব আলম সমস্ত অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, যে জমিতে গাছ কাটার কথা বলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণভাবে রাবার বাগানের মালিকানাধীন এবং বাগানের ৩/৮৬ নম্বর ব্লকের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরও বলেন, উক্ত জমিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাবার বাগান সৃজনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ব্যবস্থাপকের মতে, যারা অভিযোগ করছেন তারা আসলে দীর্ঘদিন ধরে বাগান কর্তৃপক্ষের জমি অবৈধভাবে দখল করে আছেন এবং বাগানের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই তারা সেখানে কাজ পরিচালনা করছেন।
জমি নিয়ে দুই পক্ষের এই বিরোধের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় মানুষ দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয় এবং ভুক্তভোগীরা সুবিচার পান। ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না হলে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
জমির মালিকানা ও গাছ কাটার এই বিরোধকে আপনি কীভাবে দেখছেন? এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্থানীয় প্রশাসনের কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন? আপনার মতামত আমাদের জানাতে পারেন।
মন্তব্য করুন