ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি জোটের বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জনে পৌঁছেছে। এ হামলার পর রোববার সকালে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুথি বিদ্রোহীরা, যার মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের আরামকো টাওয়ারে আঘাত হেনেছে বলে আন্তর্জাতিক মাধ্যমে উঠে এসেছে।
ইয়েমেনের সানা প্রদেশের আল-শারিয়া গ্রামে সৌদি আরবের বিমানবাহিনীর চালানো ভয়াবহ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। পূর্বে এই হামলায় ২২ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করা হলেও উদ্ধার অভিযান অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে প্রাণহানির এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়।
হুথি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আলআসবাহি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, এই হামলায় ৩৩ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ৩৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রথম দফা বিমান হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা (প্যারামেডিকস) ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করতে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালায় সৌদি বিমানবাহিনী।
হুথি সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ‘আল-মাসিরাহ’-এর প্রচারিত ভিডিওচিত্রে হামলার পর ধ্বংসস্তূপের ভয়াবহ চিত্র এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলি উদগীরণ হতে দেখা গেছে। তবে এ রক্তক্ষয়ী বিমান হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে, সানায় এই হামলার প্রত্যক্ষ জবাবে রোববার সকালে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে অন্তত পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্রোহীদের ছোড়া অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত জ্বালানি ও খনিজ সম্পদভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আরামকো টাওয়ারে আঘাত হেনেছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা আরামকো ভবনে ক্ষতির চিহ্ন দেখতে পাওয়ার কথা জানালেও সৌদি সামরিক জোট দাবি করেছে, তারা হুথিদের ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের তথ্যমতে, সৌদি আরব সমর্থিত বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর ইয়েমেনে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৬০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৩ লাখেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক।