মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে নতুন করে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্পষ্ট বার্তা এবং ইরানের নতুন শীর্ষ নেতৃত্বের পাল্টা ধ্বংসাত্মক হুঁশিয়ারিতে অঞ্চল জুড়ে বিদেশি নাগরিক ও স্থানীয়দের মাঝে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হলেই কি ইরানে নতুন করে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হবে? এই একটিমাত্র প্রশ্নকে কেন্দ্র করে এখন চরম থমথমে ও উত্তপ্ত পুরো মধ্যপ্রাচ্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্পষ্ট ও দ্বিধাগ্রস্ত বার্তা এবং তেহরানের কঠোর হুঁশিয়ারির মুখে উপসাগরীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বিমান চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কীভাবে ব্যাহত হবে—তা নিয়ে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে এই যুদ্ধ শুরু হয়। টানা আট মাস ধরে চলা এই সংঘাত সামরিক বা কূটনৈতিক কোনো পথেই সুনির্দিষ্ট সমাধানের মুখ দেখেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট একদিকে নির্বাচনের পর পুনরায় হামলার ভয় দেখাচ্ছেন, আবার অন্যদিকে সংলাপের দরজাও খোলা রাখার কথা বলছেন।
ইরানের পাল্টা হুমকি ও স্থাপনা ধ্বংসের হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির জবাবে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নির্দেশনার পর কড়া অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানি সামরিক বাহিনী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তারা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের তেলক্ষেত্রগুলোতেই আঘাত হানবে না, বরং আঞ্চলিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কেন্দ্রসহ শত্রুপক্ষের সমস্ত মূল অবকাঠামো ও স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে।
বিদেশি নাগরিকদের মাঝে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছেন উপসাগরীয় দেশগুলোতে বসবাসকারী লাখ লাখ অভিবাসী ও বিদেশি চাকুরিজীবী। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলকে নিরাপদ মনে করা হলেও, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন কূটনীতিকদের পরিবারগুলোকে নীরবে সরিয়ে নেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসায় সাধারণ মানুষের সেই নিরাপত্তাবোধে বড় ধাক্কা লেগেছে।
নিরাপত্তা আশঙ্কায় অঞ্চলটিতে একাধিক বড় বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন বাতিল করা হয়েছে। সৌদি আরবে অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের ঘরে বসে কাজ (Work from Home) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাহরাইন থেকে শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিসহ প্রধান শহরগুলোর বাসিন্দারা এক অজানা আশঙ্কায় প্রহর গুনছেন।
পর্দার আড়ালে আলোচনা ও তেহরানের শর্ত: উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে ব্যাকস্টেজে কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের চিঠি ও পরোক্ষ বার্তার আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরানের পেশ করা ৭টি সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা ছাড়া ওয়াশিংটনের সাথে কোনো ধরনের স্থায়ী সমঝোতা সম্ভব নয়।
কূটনৈতিক এই তৎপরতা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ বিরতি ও স্থিতিশীলতা আনবে, নাকি মার্কিন নির্বাচনের পর মধ্যপ্রাচ্য আরও এক ভয়াবহ ও বিধ্বংসী রূপ নেবে বর্তমানে সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুরো বিশ্ব।