ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জীবনযাত্রার একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে খাদ্যাভ্যাসের ওপর কড়া নজরদারি। এ ক্ষেত্রে শুধু মিষ্টি বা চিনিযুক্ত খাবার বর্জন করাই যথেষ্ট নয়, বরং এমন সব পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি যা শরীরের মেটাবলিজম ও ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এমন একটি কার্যকরী খনিজ উপাদান হলো ‘ক্রোমিয়াম’, যা প্রায়শই আলোচনার আড়ালে থেকে গেলেও শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমাদের শরীরের অত্যন্ত অল্প পরিমাণে ক্রোমিয়ামের প্রয়োজন হলেও এটি ইনসুলিনকে তার কাজ আরও সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা সুষম রাখতে, হঠাৎ শর্করা বেড়ে যাওয়া রোধ করতে এবং সারা দিন শরীরে শক্তির জোগান বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। এর জন্য সরাসরি কোনো কৃত্রিম সাপ্লিমেন্টে না গিয়ে সহজেই দৈনন্দিন প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে ক্রোমিয়ামের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
ক্রোমিয়ামের চমৎকার প্রাকৃতিক উৎসের মধ্যে অন্যতম হলো ব্রোকলি। নিয়মিত ব্রোকলি খেলে ফাইবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ক্রোমিয়াম পাওয়া যায়, যা শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া ওটস, ব্রাউন রাইস ও বার্লির মতো পূর্ণ শস্যদানা বা হোল গ্রেইনে প্রচুর ক্রোমিয়াম ও ফাইবার থাকে, যা রক্তে গ্লুকোজের নিঃসরণ ধীর করে। আমিষভোজীদের জন্য মুরগির মাংস, ডিম, সামুদ্রিক মাছ এবং বাদাম বা বিভিন্ন বীজ (যেমন আখরোট, আমন্ড ও সূর্যমুখীর বীজ) ক্রোমিয়াম ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের দারুণ উৎস। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এসব স্বাস্থ্যকর খাবার যুক্ত করার মাধ্যমে সহজেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
মন্তব্য করুন