ইসরায়েলের ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে সরকার গঠনের চাবিকাঠি এখন আরব দলগুলোর হাতে। নেসেটে ফিলিস্তিনপন্থী দলগুলোর সম্ভাব্য ১৯টি আসনই ঠিক করে দিতে পারে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নাকি বিরোধী শিবিরের হাতে যাবে ক্ষমতার চাবি।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট কিংবা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট কোনো পক্ষই এককভাবে প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন না পাওয়ায় সরকার গঠনে আরব সংসদ সদস্যদের অবস্থান নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করছে।
ইসরায়েলের আরব নাগরিক ও দলগুলোর পরিচয়: ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ (এক-পঞ্চমাংশ) আরব নাগরিক, যাদেরকে ‘আরব-ইসরায়েলি’ বলা হয়ে থাকে। যদিও তাঁরা নির্বাচনে ভোট দিতে ও প্রতিনিধি পাঠাতে পারেন, তবুও আবাসন, শিক্ষা ও স্থানীয় সরকারে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে মূল লড়াইয়ে রয়েছে দুই আরব ধারা:
১. রা’আম (United Arab List): মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন এই দলটি তুলনামূলক বাস্তববাদী নীতি অবলম্বন করে। তারা কেবল ফিলিস্তিনিদের অধিকারের দাবি তোলাতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে দরকষাকষির মাধ্যমে নিজেদের এলাকায় অপরাধ দমন, আবাসন এবং সরকারি বাজেট বাড়ানোর কৌশল নেয়। ২০২১ সালে নাফতালি বেনেট ও এয়ার লাপিদের সরকারে যোগ দিয়ে তারা এই রাজনৈতিক সফলতার পথ দেখিয়েছিল।
২. জয়েন্ট লিস্ট (হাদাশ, তা’আল ও বালাদ): তিনটি দলের এই সমন্বিত জোট বামপন্থী, ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক আদর্শের চর্চা করে। ইউসুফ জাবারিন, আহমদ তিবি ও সামি আবু শাহাদেহের নেতৃত্বে এই জোটটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, দখলদারত্বের অবসান এবং ইসরায়েলকে কেবল ইহুদিদের নয় সব নাগরিকের সমান অধিকারের রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোড় দেয়।
কেন তাঁরা এত গুরুত্বপূর্ণ? সংগঠিত অপরাধ, বৈষম্য এবং ফিলিস্তিনের ওপর চলা আগ্রাসন নিয়ে দুই আরব দলের চিন্তাভাবনা প্রায় একই হলেও সরকারে যাওয়ার পন্থায় তাদের পার্থক্য রয়েছে। নেতানিয়াহু শুরু থেকেই আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে সরকার গঠনের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের বিরোধী জোট যদি নেতানিয়াহুকে হটাতে চায়, তবে আরব এমপিদের সমর্থন নেওয়া ছাড়া তাদের কোনো বিকল্প নেই।
তবে আরব দলগুলো সরাসরি নতুন সরকার বা মন্ত্রিসভায় যোগ দেবে, নাকি বাইরে থেকে নীতিগত সমর্থনের বিনিময়ে নিজেদের জন্য অধিকার আদায় করবে সেটির ওপর নির্ভর করছে ইসরায়েলের নতুন রাজনৈতিক ভবিষ্যতের পথচলা।