গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পর্নোগ্রাফি মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় এক স্কুল শিক্ষিকার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ দুইজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহাবুর রহমান এই আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম এবং একই ইউনিয়নের চক নারয়ন গ্রামের মো. সালেহীন আকন্দ (২৪)। এছাড়া এই মামলায় জামিন আবেদন করা অপর দুই আসামি শ্রী প্রদীপ কুমার ও রবিউল আকন্দের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আইনজীবীদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ভুক্তভোগী নারী শিক্ষিকার দায়ের করা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ চার আসামি আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক ইউপি চেয়ারম্যান ও সালেহীন আকন্দের জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং বাকি দুজনের মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন বহাল রাখেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজওয়ান সরকার জানান, রসুলপুর ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার হীন উদ্দেশ্যে তার কিছু ব্যক্তিগত আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বাদী হয়ে সাদুল্লাপুর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে ওই শিক্ষিকা ইউপি চেয়ারম্যানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা করেছিলেন। ওই মামলা করার পর থেকেই তাকে বিভিন্ন উপায়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সামাজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় সালেহীন আকন্দ ভুক্তভোগী নারীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেন, যার পেছনে ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।