শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটিতে নাগরিক কোলাহল আর ব্যস্ত জীবন থেকে মুক্ত হয়ে প্রকৃতির কোলে কিছুটা শান্তিময় সময় কাটাতে পাহাড় ও ঝরনার মেলবন্ধনে ঘেরা খাগড়াছড়ি হতে পারে আপনার আদর্শ ভ্রমণ গন্তব্য। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ, মেঘের লুকোচুরি এবং সবুজ উপত্যকা বছরের এই সময়টিতে এক ভিন্নমাত্রার সৌন্দর্য নিয়ে ধরা দেয়। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে তাই শরৎকালের খাগড়াছড়ি সফর সব সময়ই বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।
খাগড়াছড়ি ভ্রমণের মূল আকর্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম রহস্যময় ও রোমাঞ্চকর স্থান হলো আলুটিলা প্রাকৃতিক সুড়ঙ্গ। পাহাড়ের একদম তলদেশ দিয়ে চলে যাওয়া প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ এই অন্ধকার গুহার ভেতর দিয়ে হাতে টর্চলাইট কিংবা মশাল নিয়ে হেঁটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা ভ্রমণপিয়াসুদের মনে এক দারুণ শিহরণ জাগায়। রহস্যময় এই গুহার অ্যাডভেঞ্চার শেষে কিছুটা দূরেই অবস্থিত পাহাড়ি জলপ্রপাত রিসাং ঝর্ণা। উঁচু পাহাড়ের খাঁজ বেয়ে গড়িয়ে পড়া শীতল জলধারা ও এর চারপাশের সবুজ বনাঞ্চল সহজেই যে কারো মন জুড়িয়ে দেয়। ঝরনার চঞ্চল পানিতে পা ভিজিয়ে কিংবা গোসল করে ক্লান্তি দূর করার চমৎকার সুযোগ পাবেন এখানে।
পাহাড় ও ঝরনার পাশাপাশি খাগড়াছড়ির সমতল প্রকৃতির ভিন্ন রূপ উপভোগ করতে যেতে পারেন সবুজ খেত ও দিগন্তজোড়া মাঠে ঘেরা নিউজিল্যান্ড পাড়ায়। বিশেষ করে পড়ন্ত বিকেলে এখানকার শান্ত পরিবেশ এবং সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য ভ্রমণকারীদের দারুণভাবে বিমোহিত করে। এর বাইরেও মেঘ ও পাহাড়ি উপত্যকার সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য মায়ুং কপাল বা ময়ূর কণ্ঠী ভিউপয়েন্ট ঘুরে আসা যায়। এছাড়া জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কের সুবিন্যস্ত ওয়াকওয়ে এবং বিখ্যাত ঝুলন্ত সেতুটি পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য অত্যন্ত চমৎকার এক স্থান।
ঢাকা কিংবা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে খাগড়াছড়ি পৌঁছানো বেশ সহজ। নিয়মিত বিরতিতে আন্তঃজেলা এসি ও নন-এসি বাস চলাচল করায় যাতায়াত নিয়ে কোনো ধরনের দুশ্চিন্তা থাকে না। তবে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ ও ঝরনার পিচ্ছিল পাথরে নিরাপদে চলাচলের জন্য ভালো গ্রিপযুক্ত জুতো সঙ্গে রাখা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় হবে। সব মিলিয়ে এই দুর্গাপূজার ছুটিতে পরিবার কিংবা প্রিয় মানুষদের সঙ্গে মেঘ ও পাহাড়ের রাজ্যে একটি স্মরণীয় সফর পরিকল্পনা করে নিতে পারেন।
মন্তব্য করুন