নিয়মিত সকালে রোদে হাঁটা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ কিংবা সাপ্লিমেন্ট খাওয়া সত্ত্বেও অনেকের শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি থেকে যায়। অথচ হাড় ও পেশি মজবুত রাখার পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এই ভিটামিনের ভূমিকা অপরিসীম। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, কেবল রোদে থাকা কিংবা ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং আমাদের শরীর সেই ভিটামিনকে কতটা শোষণ ও দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে পারছে, সেটাই মূল বিষয়। দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি থাকলে হাড় দুর্বল হওয়া, পেশিতে ব্যথা, ক্লান্তি, অস্টিওম্যালেশিয়া এবং শিশুদের ক্ষেত্রে রিকেটসের মতো জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পর্যাপ্ত রোদ বা সাপ্লিমেন্ট পাওয়ার পরও শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি স্থায়ী হওয়ার পেছনে একাধিক শারীরিক ও জীবনযাত্রাগত কারণ থাকে। ভিটামিন ডি মূলত চর্বিতে দ্রবণীয় একটি পুষ্টি উপাদান, তাই খাবারের সঙ্গে ডিম, বাদাম বা দুধের মতো স্বাস্থ্যকর চর্বি না থাকলে এটি শরীরে সঠিকভাবে শোষিত হতে পারে না। এছাড়া সেলিয়াক বা ক্রোনস ডিজিজের মতো হজম ও অন্ত্রের সমস্যা, অতিরিক্ত শারীরিক ওজন বা স্থূলতা, লিভার ও কিডনির দীর্ঘস্থায়ী রোগ এবং শরীরচর্চার অভাবে এই বিপাক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। আবার শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি থাকলেও ভিটামিন ডি সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না।
সূর্যালোকের ওপর নির্ভর করার পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় কিছু সুনির্দিষ্ট খাবার যুক্ত করে এই ঘাটতি অনেকটা কমানো সম্ভব। সামুদ্রিক চর্বিযুক্ত মাছ যেমন স্যালমন, ম্যাকেরেল, সার্ডিন ও টুনা মাছ ভিটামিন ডি ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের চমৎকার উৎস। পাশাপাশি কড লিভার অয়েল, ডিমের কুসুম, অতিবেগুনি রশ্মিতে প্রক্রিয়াজাত মাশরুম এবং ভিটামিন ডি যুক্ত বা ফোর্টিফায়েড দুধ, দই ও ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল খাদ্যতালিকায় রাখা অত্যন্ত উপকারী। তবে শুধু করলা, গাজর বা শাকসবজি খেয়ে এই ভিটামিনের ঘাটতি মেটানো সম্ভব নয়।
শরীরকে ভিটামিন ডি শোষণের উপযোগী করতে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা প্রয়োজন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে দীর্ঘদিন উচ্চমাত্রার ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা বিপজ্জনক, কারণ এটি শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিক বাড়িয়ে কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তাই সন্দেহ হলে রক্তে ‘২৫-হাইড্রক্সি ভিটামিন ডি’ পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসকের নির্দেশিত মাত্রায় ওষুধ ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই এই ঘাটতি মোকাবিলার সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।
মন্তব্য করুন