ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা তীব্রতর হওয়ায় দেশটির ক্রাউন প্রিন্স বা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে গোয়েন্দা ও রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, গত মঙ্গলবার একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে অংশ নেওয়ার পর থেকেই জনসমক্ষে দেখা যায়নি ৪১ বছর বয়সি এই যুবরাজকে। তাঁর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত এবং সুরক্ষিত বাঙ্কার-সুবিধাসম্পন্ন এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যকার সশস্ত্র সংঘাত এক নতুন ও ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। গত শনিবার রিয়াদের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের নিক্ষিপ্ত শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। গত এক দশকের মধ্যে দেশটির ভূখণ্ডে এটি অন্যতম ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা, যাতে ১৩ জন নিহত এবং অন্তত তিনশ জন আহত হন। এই হামলার পর থেকেই বিমানবন্দরটির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে এবং গত কয়েক দিনে সেখানে দফায় দফায় আরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। আঞ্চলিক এই উত্তেজনার জেরে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান হুথিদের বিরুদ্ধে চরম ও কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপের পর থেকেই দুই পক্ষের সংঘাত চলমান থাকলেও ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর বর্তমান পরিস্থিতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুথি দমনে সৌদি সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গেছে। রাজপরিবারের অন্দরে নিরাপত্তা কড়াকড়ি এবং একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন