বিভিন্ন কঠোর উদ্যোগ ও যৌথ বাহিনীর অভিযান সত্ত্বেও দেশজুড়ে, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কোনোভাবেই কমছে না। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অপরাধীদের এই দলগুলোর মদদদাতা বা গডফাদারদের মুখ বদলালেও কার্যক্রমে কোনো হেরফের হয়নি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী এবং মিরপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এমনকি হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে এসব গ্যাংয়ের কমবয়সী সদস্যরা।
বিশ্লেষকদের মতে, পাড়া-মহল্লায় রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী বা ‘বড়ভাই’ পরিচয়ধারীরা রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে এসব কিশোরদের ব্যবহার করে থাকে। চব্বিশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পুরোনোদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ের পৃষ্ঠপোষকরা। পুলিশের তালিকায় আগে যেখানে প্রায় দুই হাজার সদস্যের নাম ছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে পাঁচ হাজারের বেশি হয়েছে। এছাড়া দেড় শতাধিক সক্রিয় গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকলেও বাস্তবে এর সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
সবচেয়ে বেশি আলোচিত এলাকাগুলোর মধ্যে মোহাম্মদপুরে বর্তমানে ২০টিরও বেশি সক্রিয় কিশোর গ্যাং রয়েছে। এর মধ্যে পাটালি গ্রুপ, লেভেল হাই, ফরহাদ গ্রুপ, আলমগীর গ্রুপ, লাড়া দে ও ভইর্যা দে অন্যতম। ডিএমপির শীর্ষ পর্যায় থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হলেও তার সুফল মিলছে না। বসিলা, নবোদয় হাউজিং, ঢাকা উদ্যান, রায়েরবাজার এবং চাঁদ উদ্যান এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা যায় এদের। এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ শেল্টারে এসব অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উত্তরা এলাকায় ৯ নম্বর সেক্টর, আবদুল্লাহপুর, আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী এলাকা জুড়ে প্রিন্স গ্রুপ, বিগবস গ্রুপ, দে লাড়া গ্রুপ এবং দেওয়ান গ্রুপের মতো বড় বড় গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এগুলোর নেপথ্যে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতা ও সাবেক ছাত্রনেতাদের নাম উঠে এসেছে। একইভাবে মিরপুর-১১, বাউনিয়া বাঁধ, কালশী, পল্লবী এবং দারুস সালাম এলাকায় জনি বাহিনী, সানি গ্যাং ও আশিক বাহিনীর মতো একাধিক গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করছে ফুটপাত দখল, চাঁদাবাজি এবং মাদকের কারবার।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ওসমান গণি জানিয়েছেন, রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নির্মূলে শিগগিরই বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি কিশোরদের সঠিক পথে রাখতে পরিবার ও অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা
মন্তব্য করুন