পেশাব-পায়খানা বা ইস্তিঞ্জার জন্য ঢিলা ব্যবহারের সময় আজানের জবাব মুখে উচ্চারণ করে দেওয়া শরিয়ত অনুযায়ী নিষেধ। তবে ইস্তিঞ্জা শেষ হওয়ার পর আজান চলতে থাকলে বা আজান শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে তার উত্তর দেওয়া যাবে।
পেশাব-পায়খানা করা কিংবা ইস্তিঞ্জার জন্য ঢিলা ব্যবহারের মতো শৌচকার্য সম্পাদনকালে আজানের জবাব দেওয়া যাবে কি না তা নিয়ে স্পষ্ট মতামত দিয়েছেন বিশিষ্ট আলেম ও ফকিহ জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুরের মুহাদ্দিস ও মুফতি শফিকুল ইসলাম হাটহাজারী।
তিনি জানান, ইস্তিঞ্জা বা শৌচকার্য চলাকালীন মুখে উচ্চারণ করে আজানের উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকাই ইসলামী শরিয়তের স্পষ্ট নির্দেশনা।
কেন আজানের জবাব দেওয়া নিষিদ্ধ? আজানের উত্তর দেওয়া বা এর বাক্যগুলো পুনরাবৃত্তি করা আল্লাহর জিকিরের (স্মরণ) অন্তর্ভুক্ত। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, অপবিত্র স্থানে বা পেশাব-পায়খানা ও ইস্তিঞ্জা চলাকালীন মুখে কোনো ধরনের জিকির করা নিষিদ্ধ। তাই এই অবস্থায় জিকির থেকে বিরত থাকাই আবশ্যক।
হাদিসের দলিল উল্লেখ করে তিনি জানান, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে—এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সালাম দিয়েছিলেন, যখন তিনি পেশাবরত ছিলেন। মহানবী (সা.) তৎক্ষণাৎ সালামের জবাব দেননি, বরং অপবিত্র অবস্থায় আল্লাহর নাম বা জিকির পরিহার করেছেন।
কখন দেওয়া যাবে আজানের জবাব? ইস্তিঞ্জা বা ঢিলা ব্যবহারের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়ার পর যদি আজান চালু থাকে, অথবা অপবিত্র স্থান থেকে বের হয়ে এসে আজান শেষ হওয়া মাত্রই মুখ দিয়ে সেই আজানের জবাব দেওয়া সওয়াবের কাজ হবে। তবে ইস্তিঞ্জা চলারত অবস্থায় কেবল মনে মনে ইচ্ছা রাখা গেলেও মুখে কোনো শব্দ বা জবাব উচ্চারণ করা যাবে না।