চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে রীতিমতো বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিগত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ এবং একই সাথে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও। গত সোমবার ১০ আগস্ট সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। প্রকাশিত এই ফলাফলে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট মহলে বেশ উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এবারের ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে মূলত দুটি বিষয়কে প্রধান দায়ী করা হচ্ছে, যার মধ্যে ইংরেজি ও গণিত শীর্ষে রয়েছে। দেশের প্রায় প্রতিটি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই দুটি বিষয়েই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে যা সামগ্রিক ফলাফলকে মারাত্মকভাবে নিচে নামিয়ে দিয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এই বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে ইংরেজি ও গণিতের দুর্বলতাই মূলত প্রতিবার পাসের হার কমিয়ে দেওয়ার প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। তবে আশার আলো দেখিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটি বিষয়, যেখানে অন্যান্যবারের মতো এবারও সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে।
বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে দেখা যায় ঢাকা বোর্ডে ইংরেজিতে ৭৮.৪০ শতাংশ এবং গণিতে ৮২.৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করতে পেরেছে। অন্যদিকে রাজশাহীতে এই পাসের হার যথাক্রমে ৭৪.৭ ও ৭৭.১৭ শতাংশ, কুমিল্লায় ৮১.২৯ ও ৮১.৭৫ শতাংশ, যশোরে ৭১.৮৪ ও ৮৩.৩৪ শতাংশ এবং চট্টগ্রামে ৭২.২৭ ও ৮০.০৫ শতাংশ। এছাড়া বরিশালে ৬৯.২৪ ও ৭৭.৯৮ শতাংশ, সিলেটে ৬৯.১১ ও ৭৫.৯৬ শতাংশ এবং দিনাজপুরে ৭২.৯১ ও ৭১.০৫ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। ময়মনসিংহ বোর্ডে ইংরেজি ও গণিতে যথাক্রমে ৬৬.৬৪ ও ৬৯.৬১ শতাংশ, মাদ্রাসা বোর্ডে ৭৯.২১ ও ৬৯.৯৭ শতাংশ এবং কারিগরি বোর্ডে ৯৪.৭৯ ও ৭০.৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী সফল হয়েছে।
সমগ্র দেশের সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এবারের গড় পাসের হার নেমে এসেছে মাত্র ৬২.২৫ শতাংশে এবং জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। অথচ এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে গড় পাসের হার ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। কেবল ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের হিসাব বিবেচনা করলেও দেখা যায়, গত বছরের ৬৮.০৪ শতাংশ থেকে পাসের হার কমে এবার দাঁড়িয়েছে ৬৪.০৫ শতাংশে, যা প্রায় ৪ শতাংশ পয়েন্টের পতন নির্দেশ করে। সবমিলিয়ে ইংরেজি ও গণিতের মতো ভীতিজনক বিষয়ে ব্যাপক ফেল করার নেতিবাচক প্রভাব আইসিটির ভালো ফলাফল সত্ত্বেও পুরোপুরি কাটানো সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন