ম্যাকাইতে চলমান টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েও শেষ পর্যন্ত স্বস্তিতে থাকতে পারছে না বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে মাত্র চৌষট্টি রানে অলআউট করার পর অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিংয়ে নেমে দ্রুত তিনটি উইকেট হারিয়েছিল। শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অল্প সময়ের মধ্যে অজিদের টপ অর্ডার কাঁপিয়ে দিলেও স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিনের মধ্যকার পঞ্চাশোর্ধ্ব একটি জুটি খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এই জুটির দৃঢ়তায় অস্ট্রেলিয়া দলের স্কোর একশ রান পার করেছে এবং বাংলাদেশ উল্টো চাপের মুখে পড়েছে।
এর আগে ম্যাচের দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ দলের দুর্দান্ত বোলিং আক্রমণ অজিদের চেপে ধরেছিল। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই ওপেনার ম্যাট রেনশকে স্লিপে তানজিদ হাসান তামিমের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে পাঠান পেসার তাসকিন আহমেদ। একাদশে সুযোগ পেয়ে মাত্র আট রান করেই ফিরে যান এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার, ফলে বাইশ রানে প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিক দল। এর কিছু সময় পর অষ্টম ওভারে বল হাতে নিয়ে জোড়া আঘাত হানেন শরিফুল ইসলাম। নিজের ওভারের দ্বিতীয় বলেই ট্র্যাভিস হেডকে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড করেন তিনি, যিনি করেন বাইশ রান। ঠিক চার বলের ব্যবধানে মার্নাস লাবুশেনকে মাত্র চার রানে বোল্ড করে দেন শরিফুল। মাত্র একচল্লিশ রানে তিন উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে বড় বিপদে ফেলেছিল টাইগাররা।
চা বিরতির আগের সেই পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক হলেও বিরতির পর আর সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। চা বিরতির আগে তিন উইকেটে পঞ্চাশ রান করা অস্ট্রেলিয়া এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেয়নি। স্টিভ স্মিথ এবং ক্যামেরন গ্রিন অত্যন্ত দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে দলের রান একশ পার করে নেন। এর আগে মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিং তোপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ মাত্র চৌষট্টি রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল, যেখানে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ চৌদ্দ রান করেছিলেন সেই শরিফুল ইসলাম। ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্য দেখানোর পর বল হাতেও তিনি দারুণ শুরু এনে দিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ স্মিথ ও গ্রিনের জুটি বাংলাদেশের বোলারদের সাফল্যের পথ আটকে দিয়েছে।
মন্তব্য করুন