টাইফুন মায়সাকের আঘাতে বিপর্যস্ত চীনের জনজীবন। দেশজুড়ে টানা ভারী বর্ষণ, ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রলয়ঙ্কারী এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশাল এলাকার কৃষিজমি।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংসি অঞ্চলে। সেখানে টাইফুনের প্রভাবে অন্তত ৪০টি নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে এবং একটি জলাধারের কংক্রিটের বাঁধ ভেঙে প্রবল স্রোতে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। এই অঞ্চলের প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নদীর পানির উচ্চতা বিপৎসীমার ছয় মিটারেরও বেশি ওপরে উঠে যেতে পারে, যা বাঁধগুলোর সুরক্ষার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, মধ্যাঞ্চলের হুবেই প্রদেশে তীব্র বজ্রঝড় ও ঝোড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে ১১ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সেখানে প্রায় পাঁচ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ২২টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গানসু প্রদেশে ভূমিধসের ঘটনা আরও শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। সেখানকার রেনচাং গ্রামে মাটিচাপা পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই দুর্যোগ মোকাবিলায় উদ্ধারকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও তৎপরতার নির্দেশ দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দেশজুড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাত্রার জরুরি সতর্কতা বহাল রেখেছে। ধ্বংসযজ্ঞ কাটিয়ে উঠতে গানসু প্রদেশের পুনর্গঠনের জন্য সরকার তিন কোটি ইউয়ান বরাদ্দ করেছে। দুর্যোগপূর্ণ এই সময়ে জলাধার ও বাঁধগুলোর নিরাপত্তা বজায় রাখাকেই এখন বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছে দেশটির প্রশাসন।
মন্তব্য করুন