সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালে যখন ১-১ সমতার পর হুলিয়ান আলভারেজের গোলে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল, তখনো ম্যাচ শেষ হওয়ার বাকি ছিল কয়েক মুহূর্ত। সুইজারল্যান্ড যখন মরিয়া হয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে আর্জেন্টিনার জয়ের আনুষ্ঠানিক সিলমোহরটি বসালেন লাউতারো মার্তিনেজ। তার গোলটি কেবল স্কোরলাইন ৩-১ করেনি, বরং কোটি ভক্তের উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে আর্জেন্টিনাকে সেমিফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে।
১৯৯৭ সালে আর্জেন্টিনার বাহিয়া ব্লাঙ্কায় জন্ম নেওয়া এই স্ট্রাইকার ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি অদম্য ছিলেন। বাবা মারিও মার্তিনেজের হাত ধরে ফুটবলের হাতেখড়ি হওয়া লাউতারো নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমে হয়েছেন ‘এল তোরো’ বা ষাঁড়। রেসিং ক্লাব থেকে ইতালিয়ান জায়ান্ট ইন্টার মিলান তার এই দীর্ঘ পথচলা কখনোই সহজ ছিল না। ইন্টার মিলানের অধিনায়ক হিসেবে যেমন তিনি ইতালিয়ান ফুটবলে রাজত্ব করেছেন, তেমনি আর্জেন্টিনার জার্সিতেও তিনি হয়ে উঠেছেন দলের অঘোষিত ত্রাণকর্তা।
কাতার বিশ্বকাপ থেকে ২০২৪ কোপা আমেরিকা লাউতারোর ক্যারিয়ারে উত্থান-পতনের অনেক গল্প আছে। অনেকবার প্রথম একাদশে জায়গা হারিয়েছেন, সমালোচনার মুখে পড়েছেন, কিন্তু কখনো হাল ছাড়েননি। ২০২২ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সেই স্নায়ুচাপের টাইব্রেকার গোল কিংবা ২০২৪ কোপা আমেরিকার ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে গোল লাউতারো বারবার প্রমাণ করেছেন কেন তাকে ‘বিগ ম্যাচ প্লেয়ার’ বলা হয়। মাঠের ভেতরে ষাঁড়ের মতো লড়াকু হলেও মাঠের বাইরে তিনি এক নিভৃতচারী বাবা ও আদর্শ স্বামী, যিনি নিজের শেকড়কে সব সময় হৃদয়ে লালন করেন।
ফুটবল মাঠে সাফল্য মানেই কেবল বল জালে জড়ানো নয়, বরং দলের কঠিন সময়ে দায়িত্ব নেওয়া। হুলিয়ান আলভারেজ যে দরজাটি খুলে দিয়েছিলেন, লাউতারো মার্তিনেজ সেই দরজা দিয়ে আর্জেন্টিনাকে তুলে দিলেন জয়ের বন্দরে। প্রতিটি বিশ্বকাপে একজন নায়ক জন্ম নেয় না, বরং জন্ম নেয় অনেকগুলো ছোট ছোট গল্পের নায়ক। আলভারেজ যদি জয়ের মোড় ঘোরানো অধ্যায় লিখে থাকেন, তবে লাউতারো মার্তিনেজ সেখানে লিখে দিলেন জয়ের চূড়ান্ত ইতিবাচক শেষ কথাটি।
স্নায়ুচাপের মুহূর্তে গোল করার যে অনন্য দক্ষতা লাউতারো দেখান, আপনি কি তাকে বর্তমান প্রজন্মের সেরা ‘ক্লুচ’ স্ট্রাইকার হিসেবে গণ্য করেন?
মন্তব্য করুন