৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপের আসরে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে গড়িয়েছে ১০৪টি ম্যাচ। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে সম্ভাব্য ম্যাচ ফিক্সিং, অবৈধ বেটিং ও অন্যান্য ঝুঁকি পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত সক্রিয় ছিল ফিফার ইন্টেগ্রিটি টাস্ক ফোর্স। গত ১৯ জুলাই স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার রোমাঞ্চকর ফাইনালের মাধ্যমে পর্দা নামে বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পরই সম্ভাব্য ম্যাচ ফিক্সিং ও বেটিং সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফিফার বিশেষ এই কমিটি।
ইন্টেগ্রিটি টাস্ক ফোর্সের প্রকাশিত বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ফিফা আয়োজিত প্রতিযোগিতাকে ম্যাচ পাতানোর হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে গঠিত এই টাস্ক ফোর্স পুরো বিশ্বকাপজুড়ে নিরলসভাবে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেছে। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর তারা নিশ্চিত করেছে যে, টুর্নামেন্টের কোনো ম্যাচেই সন্দেহজনক কোনো বাজির কার্যক্রম বা ম্যাচ কারসাজির বিন্দুমাত্র ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে টাস্ক ফোর্সের সদস্যদের পাঠানো বাজি পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন, অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য এবং আধুনিক রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাপ্ত সব ডেটা কেন্দ্রীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল।
নির্ধারিত কার্যপ্রণালি অনুযায়ী এসব তথ্য নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করে টাস্ক ফোর্সের সদস্যদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়। টাস্ক ফোর্সের এই সমন্বিত কাঠামোর ফলে বিশ্বকাপজুড়ে ম্যাচ পাতানোর সম্ভাব্য যেকোনো সতর্ক সংকেত দ্রুত, সমন্বিত ও দক্ষতার সঙ্গে মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে। প্রতিটি সদস্য তাদের নিজ নিজ পেশাগত দক্ষতা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান দিয়ে এই পুরো প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন।
ফিফার সিনিয়র ইন্টেগ্রিটি ম্যানেজার লিয়াম রিচ এ প্রসঙ্গে বলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ফিফা ইন্টেগ্রিটি টাস্ক ফোর্স একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও কার্যকর কাঠামো তৈরি করেছিল। টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের অসাধারণ দক্ষতা ও প্রতিশ্রুতির জন্য আমরা সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতেও ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টে এই পারস্পরিক সহযোগিতা ও তৎপরতা আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত এই বিশ্বকাপে ফিফা ইন্টেগ্রিটি টাস্ক ফোর্সের সদস্য হিসেবে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন খ্যাতনামা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যুক্ত ছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি), আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ), কনমেবল, উয়েফা, কনকাকাফ, ওশেনিয়া ফুটবল কনফেডারেশন, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা ও মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন, এফবিআই, ইন্টারপোল, ইউএনওডিসি, কাউন্সিল অব ইউরোপ, স্পোর্টর্মাডার, আইবিআইএ, জিনিয়াস স্পোর্টস এবং যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন সরকারি ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞ সংস্থা।
মন্তব্য করুন