ফুটবল বিশ্বের বর্তমান গোলমেশিন হিসেবে পরিচিত আর্লিং হালান্ড আবারো নিজেকে প্রমাণ করলেন। গত তিন ম্যাচে পাঁচটি গোল করে তিনি আবারো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। নরওয়ের হয়ে আইভরিকোস্টের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার জয়সূচক গোলটি কেবল একটি গোল নয়, বরং তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ৫৩টি ম্যাচে ৬০টি গোলের মালিক ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার প্রতি ৭২ মিনিটে একটি করে গোল করে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। তবে এই পরিসংখ্যানটি যখন রোনালদোর ১৪৫ গোলের রেকর্ডের সাথে তুলনা করা হয়, তখন প্রশ্ন ওঠে যে হালান্ড আসলেই কোথায় গিয়ে থামবেন।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে হালান্ডের শুরুটা যে কারো নজর কাড়ার মতো। মলদোভা বা জিব্রাল্টারের মতো দলের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করলেও, ইতালির বিপক্ষে তার জোড়া গোল ছিল তার সামর্থ্যের প্রকৃত পরীক্ষা। সেই ম্যাচেই নরওয়ে দীর্ঘ সময় পর বড় কোনো টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। বিশ্বকাপে ইরাক ও সেনেগালের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে, বড় মঞ্চের চাপ সামলানোয় তিনি এখন পরিণত। রোনালদোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, রোনালদো যেখানে প্রতি ১.৫৯ ম্যাচে একটি গোল পান, সেখানে হালান্ড প্রতি ০.৮৮ ম্যাচে গোল পেয়েছেন। এই গোল করার গতি যদি তিনি ক্যারিয়ারের লম্বা সময় পর্যন্ত বজায় রাখতে পারেন, তবে রোনালদোর রেকর্ড ভাঙা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
তবে ২৬০ গোল করার যে গাণিতিক হিসেবটি করা হচ্ছে, তা বাস্তবে কতটা সম্ভব তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। একজন ফুটবলারের জন্য ৪১ বছর বয়স পর্যন্ত একই রকম ধারালো ফর্ম ধরে রাখা শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন। ইনজুরি বা চোট যেকোনো সময় ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এছাড়া নরওয়ের মতো দল বড় টুর্নামেন্টে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাবে কি না, সেটিও দেখার বিষয়। বছরে গড়ে ১০টি ম্যাচ খেললে এবং ৪১ বছর বয়স পর্যন্ত সব ম্যাচ খেললে এই অবিশ্বাস্য মাইলফলকটি স্পর্শ করা সম্ভব হতে পারে, তবে এটি হবে ফুটবলের ইতিহাসে এক অতি-মানবিক অর্জন। হালান্ড যদি তার বর্তমান ফর্ম এবং ফিটনেস বজায় রেখে নরওয়েকে নিয়মিত বড় টুর্নামেন্টে নিয়ে যেতে পারেন, তবে তিনি হয়তো রোনালদোর রেকর্ড টপকে বিশ্বের সর্বকালের সেরা গোলদাতার তালিকায় নিজের নাম লেখাতে পারবেন। এখন দেখার বিষয়, গোলমেশিন হালান্ড তার এই অবিশ্বাস্য গতি কতটা দীর্ঘস্থায়ী করতে পারেন।
মন্তব্য করুন