বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচগুলো মাঠে গড়ানোর আগেই দলগুলোর কোচ ও সমর্থকরা পড়েছেন বড় দুশ্চিন্তায়। নকআউট পর্বের শেষ আটের লড়াইয়ে থাকা ৮টি দলের ১৭ জন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার বর্তমানে রয়েছেন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে। ফিফার বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, শেষ ষোলো থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড় যদি দুটি হলুদ কার্ড দেখেন, তবে পরবর্তী এক ম্যাচের জন্য তিনি নিষিদ্ধ হবেন। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে এই ১৭ জনের কেউ যদি আবারও হলুদ কার্ড দেখেন, তবে দল সেমিফাইনালে উঠলেও তিনি সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচে খেলতে পারবেন না। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সেমিফাইনাল শুরুর আগেই হলুদ কার্ডের এই হিসাব নতুন করে শুরু হবে, অর্থাৎ ফাইনালের আগে আর কোনো খেলোয়াড় কার্ডের কারণে নিষিদ্ধ হওয়ার ভয় থাকবে না।
নিষেধাজ্ঞার এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে আছে ইংল্যান্ড ও মরক্কো। ইংল্যান্ডের ডেকলান রাইস, নিকো ও'রাইলি, মার্ক গেহি এবং জুড বেলিংহ্যাম প্রত্যেকেই একটি করে হলুদ কার্ড নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের মাঠে নামছেন। অন্যদিকে, মরক্কোর আশরাফ হাকিমি, ইসা দিয়েপ, রেদুয়ান হালহাল এবং বিলাল এল খান্নুসও একই পরিস্থিতির সম্মুখীন। এছাড়াও ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসে ও মানু কোনে, সুইজারল্যান্ডের গ্রানিত জাকা, ডেনিস জাকারিয়া ও মিরো মুইহাইম এই ঝুঁকির তালিকায় রয়েছেন। তালিকায় আরও আছেন আর্জেন্টিনার গনসালো মন্তিয়েল, স্পেনের ফেরান তোরেস, নরওয়ের আন্তোনিও নুসা এবং বেলজিয়ামের ব্র্যান্ডন মেখেলে।
এদিকে পরিস্থিতির ভিন্নতাও রয়েছে; ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসাহ লাল কার্ড পাওয়ায় কোয়ার্টার ফাইনালেই নিষিদ্ধ আছেন। আবার ফ্রান্স তাদের তারকা খেলোয়াড় মাইকেল ওলিসের হলুদ কার্ড বাতিলের জন্য ফিফার কাছে আপিল করলেও তা সফল হয়নি। এখন কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে এই ১৭ জন ফুটবলারকে নিজেদের মেজাজ ও ট্যাকল সামলে খেলতে হবে। একটি ভুল সিদ্ধান্ত বা অনাকাঙ্ক্ষিত ফাউল তাদের স্বপ্নের সেমিফাইনাল থেকে মাঠের বাইরে ছিটকে দিতে পারে, যা যেকোনো দলের জন্যই বড় ধরণের ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে। এখন দেখার বিষয়, মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার পাশাপাশি এই ফুটবলাররা কতটা সতর্ক থাকতে পারেন।
মন্তব্য করুন