আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ শুরু হয়েছে। আইন সংশোধনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়াই করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে এই নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সংসদ নির্বাচনে বড় জয়ের পর ক্ষমতাসীন বিএনপি এই নির্বাচনকে নিজেদের প্রথম বড় ‘রাজনৈতিক পরীক্ষা’ হিসেবে দেখছে। দলীয় প্রতীক না থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের বলয়ের কারণে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা সংঘাতের আশঙ্কা নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা চলছে। তবে শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ও একক প্রার্থী নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী জোটবদ্ধভাবে নয়, বরং স্থানীয় সরকারের সব স্তরে সারাদেশে দলসমর্থিত একক প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভোটার তালিকা যাচাই এবং নারী ও তরুণ ভোটারদের টার্গেট করে মাঠ পর্যায়ে প্রচার শুরু করেছেন তাদের প্রার্থীরা। জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি কর্মসূচি শেষ করে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)। ইতোমধ্যে পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে শতাধিক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে এবং ইউনিয়ন পর্যায়েও প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে।
বামপন্থী দলগুলোর মধ্যে সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স জানিয়েছেন, তফসিল ঘোষণার পর তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে এককভাবে এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট করার চিন্তাভাবনা রয়েছে তাদের। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তৃণমূল সংগঠন পুনর্গঠনের মাধ্যমে ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রার্থী দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থার অভাব এবং সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে সংশয় থাকায় জাতীয় পার্টি এখনও নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ নেতাদের ব্যক্তিগত পরিচয়ে বা নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই জামায়াতের পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ দলের পদধারীদের নির্বাচন থেকে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশনের দৃঢ় ভূমিকা এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই হবে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মূল চাবিকাঠি।
মন্তব্য করুন